“ওকে ভাঙিয়েই জীবন চলত….?”-জুবিনকে নিয়ে বিস্ফোরক প্রিয়-র অজানা তথ্য

অসমের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণ শুধু উত্তর-পূর্ব ভারত নয়, বাংলা বিনোদন জগতেও গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। জুবিনের বেশিরভাগ হিট গানের স্রষ্টা, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় গীতিকার প্রিয় চট্টোপাধ্যায় জুবিনের মৃত্যুতে কার্যত স্তব্ধ। হাতে কাজের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, এই শোক কাটিয়ে ওঠা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক বাংলা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয় চট্টোপাধ্যায় জুবিনের মৃত্যুর পেছনের অনেক অজানা কথা সামনে আনলেন এবং তাঁর চারপাশের মানুষজনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন।

🌊 ‘সমুদ্রে নামা ওর জন্য বারণ ছিল, কেন আবার নামল?’
জুবিনের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে প্রিয়র মনে বড় প্রশ্নচিহ্ন। সিঙ্গাপুরে রাতভর পার্টি ও কাজের রুটিন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,

“আমরা একটা সম্পদকে হারালাম। ওঁর রুটিনটা ছিল অন্যরকম। রাতে কাজ করত, দিনে ঘুমোত। সিঙ্গাপুরে রাত জাগার পর দিনের বেলায় সমুদ্রে ওকে ভাবাই যায় না। ওটাই আমার বড় প্রশ্ন। যদি রাত জেগে পার্টিই হয়ে থাকে, তাহলে দিনে ও ওখানে কেন গিয়েছিল? … যার সুইমিং পুলে পর্যন্ত নামা বারণ, সে সাগরে সাঁতার কাটতে গেল! ওর আশেপাশে যারা ছিল, তাদের ওকে ভাঙিয়েই জীবন চলত। যাকে ভাঙিয়ে জীবন চলত, তার একটু যত্ন নেব না? এটা কী করে হয়।”

এই শোকে প্রিয় এতটাই আচ্ছন্ন যে জুবিনের স্ত্রী গরিমাকে ফোন করেও তিনি সমবেদনা জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, “কিছু শোক স্তব্ধ করে দেয়। আমি চুপ হয়ে গিয়েছিলাম খবরটা পেয়ে। কী বলব ফোন করে। আমি যতই লেখালেখি করি, এসব ক্ষেত্রে ভাষা হারিয়ে যায়।”

🎶 ‘তোর নাম’-এর গানটি যেন তাঁরই জীবন
বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘মন মানে না’-র মতো বহু ব্লকবাস্টার সিনেমার গান লিখেছেন প্রিয় চট্টোপাধ্যায়। জুবিনের কণ্ঠে গাওয়া তাঁর লেখা সুপারহিট গানগুলির মধ্যে রয়েছে ‘পিয়া রে পিয়া রে’, ‘আয়না মন ভাঙা আয়না’, ‘তোমার আমার প্রেম’, এবং ‘চোখের জলে ভাসিয়ে দিলাম’।

তবে ‘তোর নাম’ সিনেমার সেই বিখ্যাত গানটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “‘তোর নাম’ সিনেমার ‘বন্ধু রে’ গানটা ওঁর জীবনের সঙ্গে এভাবে মিলে যাবে ভাবতে পারিনি।”

দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। প্রিয় জানালেন, “ও ছোট-বড় দেখত না। ভালো লাগলেই মিশে যেত।” প্রথমে কলকাতায় একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানে তাঁদের আলাপ হয়। এরপর প্রিয় মুম্বাইয়ে জুবিনের বাড়িতেও গিয়েছিলেন।

🚗 বম্বের রাস্তায় জুবিনের সেই ভয়ংকর গাড়ি চালানো
জুবিনের সঙ্গে মজার স্মৃতিচারণ করে প্রিয় বলেন, তাঁর গাড়ি চড়ার অভিজ্ঞতা ভুলতে পারবেন না। একবার রাতে ডাবিং শেষ হওয়ার পর জুবিন তাঁদের আন্ধেরি ইস্টের রাস্তায় ঘোরাতে নিয়ে যান।

“ব্যাপক স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছিল জুবিন। আমরা গাড়িতে বসে ভয়ে কাঁটা হয়েছিলাম। লোকজন ভয় পাচ্ছিল, রাগ প্রকাশ করছিল মারাঠি ভাষায়। জুবিন সেগুলো দেখে মজা পাচ্ছিল।”

তবে এই সমস্ত স্মৃতি এখন কেবলই হাহাকার। প্রিয় চট্টোপাধ্যায় কেবল আক্ষেপ করে বলছেন, “খালি মনে হচ্ছিল, নিজেকে একটু যত্ন করতে পারল না।”