অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর নিয়ে বিতর্ক, ফল প্রকাশ হলেও নিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে হাইকোর্টের রায়ের উপর

২০১৬ সালের একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেও, সেই ফলাফলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার নির্দেশের উপর। স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) ৫ বছরের বেশি পড়ানোর অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে।

এ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এদিন বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা ফল যেভাবে প্রকাশ করছে করুক, তাতে আদালত বিধিনিষেধ আরোপ করছে না। তবে হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কী রায় হয়, তার উপর নিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

আবেদনকারীদের মূল বক্তব্য
সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের ৩ এপ্রিল ২০১৬ সালের নিয়োগ হওয়া ২৬ হাজার প্রার্থীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পরীক্ষা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো কমিশন পরীক্ষা নিলেও, অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা: যাঁদের অভিজ্ঞতা নেই, সেই ধরনের একাধিক প্রার্থী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিজ্ঞতার জন্য এক বছরের অভিজ্ঞতায় ২ নম্বর করে বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁরা পরীক্ষা দেওয়ার আগেই ১০ নম্বর পিছিয়ে থাকছেন, যা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী।

অন্য পক্ষের দাবি: আবার অন্য আরও একটি পক্ষের দাবি, প্রায় সমস্ত প্রার্থীরা বেসরকারি স্কুলে কর্মরত হলেও, তাঁদের অভিজ্ঞতার জন্য কোনও নম্বর দেওয়া হচ্ছে না।

এসএসসি ও রাজ্যের অবস্থান
এসএসসি-র যুক্তি: স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, এই মামলা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, প্রত্যেক মামলাকারী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাঁরা পরীক্ষা দেওয়ার আগে থেকেই আইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন।

রাজ্যের আবেদন: রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন করেন, এখন যেন কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের নির্দেশ না-দেওয়া হয়। কারণ এই মামলা শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন এবং আগামী ২৪ নভেম্বর সেখানে এই মামলার শুনানি রয়েছে।

সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জানান, ১২ নভেম্বর এই মামলার বিস্তারিত শুনানির পর আদালত নির্দেশ দেবে। বিচারপতি সিনহা এদিন স্পষ্ট করে বলেন, “১০ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক মামলার শুনানি চলছে। সেই জন্য পরীক্ষার যে ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে তার ভবিষ্যৎ এই মামলার উপর নির্ভর করবে।”