দুই স্ত্রীকে ‘হারানোর’ ভয়!-SIR আতঙ্কে বৃদ্ধের আত্মহত্যার অভিযোগ

রাজ্যে ‘এসআইআর’ (SIR- Social Identity Register) আতঙ্ককে ঘিরে একের পর এক মৃত্যুর অভিযোগ সামনে আসছে। নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে আত্মহত্যার ঘটনা এবার ঘটল জলপাইগুড়িতে। দুই স্ত্রীকে হারানোর আশঙ্কায় আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। এই ঘটনায় গোটা জগন্নাথ কলোনি এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

জলপাইগুড়ির জগন্নাথ কলোনির বাসিন্দা নরেন্দ্রনাথ রায় (৬০) পেশায় ছিলেন ভ্যানচালক। শান্ত এবং সাদামাটা স্বভাবের এই মানুষটির সংসারে চরম অভাব না থাকলেও, স্বচ্ছলতাও ছিল না। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক মাস ধরেই তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন।

নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই নরেন্দ্রনাথ রায় পুরনো ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে দেখেন। সেখানে নিজের নাম থাকলেও, তাঁর দুই স্ত্রী— মিনতি এবং বিনোদিনী-র নাম তিনি খুঁজে পাননি। ষাট বছর বয়সে এসে দুই স্ত্রীকে ‘দেশছাড়া’ হতে হবে, এই প্রবল আশঙ্কায় তিনি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে ওঠেন।

আত্মীয়-প্রতিবেশীরা তাঁকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তালিকায় নাম না থাকা মানেই দেশছাড়া হওয়া নয়। আবেদন (Appeal) বা অন্য নথিপত্রের মাধ্যমেও নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। স্থানীয় পঞ্চায়েতেও তাঁকে একই আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও তাঁর মনের ভয় দূর হয়নি।

💔 ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, পরিবার আঙুল তুলছে SIR-এর দিকে
শুক্রবার দুপুরে বাড়ির অনতিদূরেই নরেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পরিবার এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, “এসআইআর-এর ভয়েই উনি দিনরাত কাঁটা হয়ে ছিলেন। সেই ভয়ই শেষ করে দিল।”

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই একই কারণে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজাও তুঙ্গে। এদিন শেওড়াফুলিতেও এসআইআর আতঙ্কে এক যৌনকর্মীর আত্মহত্যার অভিযোগ সামনে এসেছে।