‘জন-গণ-মন লেখা হয়েছিল ব্রিটিশদের স্বাগত জানাতে’! জাতীয় সঙ্গীত বদলে ‘বন্দে মাতরম’-এর দাবি তুললেন বিজেপি সাংসদ

ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন-গণ-মন’ নিয়ে ফের একবার রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হল। এবার এই বিতর্ক উসকে দিলেন কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ বিশ্বেশ্বর কাগেরি। তিনি সরাসরি দাবি করেছেন, ব্রিটিশদের স্বাগত জানানোর জন্যই এই গান রচনা করা হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, ‘জন-গণ-মন’-এর পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম’-কে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত ছিল।
হোন্নাভার অঞ্চলে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই বিজেপি সাংসদ বলেন:
“ব্রিটিশদের স্বাগত জানাতে লেখা হয়েছিল জন-গণ-মন। কিন্তু তারপরেও আমাদের পূর্বপুরুষরা জন-গণ-মন ও বন্দেমাতরম, দুই গানকেই সমান মর্যাদা ও গুরুত্ব দিয়ে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।”
জন-গণ-মন নিয়ে পুরোনো বিতর্ক কেন?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘জন-গণ-মন’ গানটিকে নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে যখন কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশনে এটি প্রথমবার গাওয়া হয়। সেই সময় ভারত সফরে এসেছিলেন ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ। এই কারণেই অনেকে দাবি করেন, ব্রিটিশ সম্রাটের উদ্দেশ্যেই ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ রচনা করা হয়েছিল।
এর আগেও ২০২০ সালের নভেম্বরে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেছিলেন, ‘জন-গণ-মন’-কে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে না রেখে আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর গৃহীত সংস্করণটিকে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত করা উচিত। পাঁচ বছর পর ফের এই বিতর্ক মাথাচাড়া দিল।
‘বন্দে মাতরম’-এর সমান মর্যাদা
১৯৫০ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা জানান। তবে তিনি একইসঙ্গে জানান, বন্দে মাতরমকেও জাতীয় সঙ্গীতের সমান মর্যাদা দেওয়া হবে। যদিও পরবর্তীকালে এককভাবে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ‘জন-গণ-মন’ রয়ে গিয়েছে।
‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিতে বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্য জাতীয় স্তরে পুরোনো বিতর্কের আগুন আবার উসকে দিল।