শাক্ত-বৈষ্ণবের মেলবন্ধন অটুট! নবদ্বীপের রাস উৎসবের পরদিনই হয় এক বিরল পরম্পরা, শতবর্ষ প্রাচীন কুমারী পুজো

নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব কেবল রাস পূর্ণিমার দেবদেবীর আরাধনাতেই সীমাবদ্ধ নয়; এই উৎসব শাক্ত ও বৈষ্ণব ভাবধারার এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী। তবে এই উৎসবের বিশেষত্ব আরও বেড়ে যায় পুজোর পরদিন অনুষ্ঠিত হওয়া এক বিরল পরম্পরা কুমারী পুজোর কারণে।
শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শ্যামা, কৃষ্ণ, মহিষমর্দিনী, শিব-সহ একাধিক দেব-দেবীর আরাধনা হলেও, এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো নবদ্বীপের ষষ্ঠীতলা বারোয়ারি। প্রায় শতবর্ষ পুরনো এই কুমারী পুজোর আচার আজও নিষ্ঠার সঙ্গে এখানে পালন করা হয়।
ষষ্ঠীতলা বারোয়ারির কুমারী পুজো
নবদ্বীপের একমাত্র কুমারী পুজোর আয়োজন হয় এই ষষ্ঠীতলা বারোয়ারিতেই। এখানে একটি কুমারী কন্যাকে শাড়ি পরিয়ে, ফুল দিয়ে সাজিয়ে বসানো হয় দেবীর সিংহাসনে। এরপর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে শুরু হয় পুজো, যেখানে কুমারীর পায়ে নিবেদিত হয় পদ্মফুল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুজোর আদল মূলত বেলুড় মঠের কুমারী পুজোর অনুপ্রেরণায় হলেও, নবদ্বীপের স্থানীয় ঐতিহ্য ও ভক্তির রঙে এর রূপ আরও অনন্য হয়ে উঠেছে।
প্রায় ১০০ বছরের কাছাকাছি এই পুজো নবদ্বীপের সংস্কৃতির এক অমূল্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর রাস পূর্ণিমা ও তার পরের দিনে, স্থানীয় মানুষজন ছাড়াও বাইরের বহু দর্শনার্থী এই বিরল পরম্পরা প্রত্যক্ষ করতে নবদ্বীপে ভিড় জমান। এই কুমারী পুজো যেন নবদ্বীপের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।