স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ঘর ছেড়েছিলেন, ফের কেন রাস্তায় ঝর্ণা পাল? মা-ছেলের পুনর্মিলনের পর নিয়তির ফের খেলা!

রাণু মণ্ডল বা ভুবন বাদ্যকরের মতো এবার ফের একবার সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনায় উঠে এসেছেন রায়গঞ্জের ভাঙ্গা রোড কলোনির বাসিন্দা ঝর্ণা পাল। জীবন সংগ্রামের কঠিন পথে হাঁটলেও, তাঁর গানে মুগ্ধ পথচলতি মানুষ। আবর্জনার স্তূপ থেকে বোতল, কাগজ কুড়িয়ে আনা এবং ফাঁকে ফাঁকে গান গেয়ে যাওয়াই তাঁর জীবন।

কিন্তু ঝর্ণা পালের এই কাহিনিতে রয়েছে এক আবেগঘন মোড় এবং এক নতুন প্রশ্ন।

সমাজকর্মী বাপন দাসের উদ্যোগে পুনর্মিলন
আজ থেকে দু’বছর আগে ঝর্ণা পাল কলকাতার রাস্তায় ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতেন। সেই সময় পুলিশ কর্মী ও সমাজকর্মী বাপন দাসের নজরে আসেন তিনি। বাপনবাবু তাঁর গান ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওটি পৌঁছে যায় রায়গঞ্জে থাকা তাঁর ছোট ছেলের কাছে, যে সাত বছর ধরে মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। সমাজকর্মীর সহায়তায় অবশেষে মা-ছেলের পুনর্মিলন হয় এবং সেই দৃশ্যে দু’জনেই কেঁদে ভাসিয়েছিলেন। ঝর্ণা তখন জানিয়েছিলেন, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ঘর ছেড়েছিলেন তিনি এবং পেটের তাগিদে কলকাতায় বোতল-কাগজ কুড়িয়ে বিক্রি করতেন। গানই ছিল তাঁর মনের আশ্রয়।

নিয়তির ফের খেলা: ফের রাস্তায় ঝর্ণা
দু’বছর পর নিয়তি ফের খেলা খেলল। এবার নিজের শহর রায়গঞ্জেই আবার সেই চেনা দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে ঝর্ণা পালকে। শিলিগুড়ি মোড়, বাসস্ট্যান্ড, বাজার — সর্বত্রই তাঁর এক হাতে বোতল, অন্য হাতে জীবনের সুর। এখন তাঁর গান শুনে অনেকেই তাঁকে হাতে টাকা গুঁজে দিচ্ছে, রেস্টুরেন্টে বসিয়ে খাওয়াচ্ছে বা ভিডিও করছে। ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম — সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ছে তাঁর নতুন ভিডিও।

কেন এই ফেরা?
কিন্তু প্রশ্ন হল, এত কিছুর পরও কেন ফের রাস্তায় নামলেন ঝর্ণা পাল? কেনই বা ছেলের সঙ্গে থাকা হলো না তাঁর?

এই প্রশ্নের উত্তরে ঝর্ণা পাল নিজেই বলেন: “আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। পেটের দায়ে আবার গাই, কুড়িয়ে খাই।”

তাঁর এই সংক্ষিপ্ত উত্তরটি সংগ্রাম, অভিমান, আর জীবনের প্রতি এক অদম্য ভালোবাসার সুরকে তুলে ধরছে। এই মুহূর্তে ঝর্ণা পালের পরিবার এবং তাঁর বড় ছেলে-মেয়ে তাঁর খবর রাখে কি না, সেই প্রশ্নও থেকেই যাচ্ছে। জীবনের তীব্র কষ্টের মধ্যেও তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে এক অদ্ভুত সুর— যা নেট দুনিয়ায় আবারও ঝড় তুলেছে।