শিখরে ধাওয়ান ও রায়নার বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ED, জেনেনিন কি কারণ ?

ভারতের দুই প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়না এবং শিখর ধাওয়ানের বিরুদ্ধে এবার বড়সড় ব্যবস্থা নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অনলাইন জুয়া ও বেটিং সংক্রান্ত একটি মানি লন্ডারিং মামলায় এই দুই তারকার মোট ১১.১৪ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

সূত্রের খবর, অবৈধ অনলাইন বেটিং সাইট 1xBet-এর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে ইডি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর অধীনে একটি অস্থায়ী আদেশ জারি করেছে। এই আদেশের ফলে ধাওয়ানের ৪.৫ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং রায়নার ৬.৬৪ কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারই 1xBet এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিদেশী সংস্থার প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন চুক্তি করেছিলেন। ইডি-র দাবি, এই তারকারা জেনেশুনেই এই বেটিং প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।

এই অনলাইন বেটিং মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ইডি শুধুমাত্র রায়না বা ধাওয়ান নন, যুবরাজ সিং, রবিন উথাপ্পা, সোনু সুদ, উর্বশী রাউতেলা, মিমি চক্রবর্তী এবং অনুষ্কা হাজরা সহ আরও বেশ কয়েকজন তারকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।

এই তদন্তটি মূলত 1xBet, FairPlay, Parimatch, এবং Lotus365-এর মতো নিষিদ্ধ বেটিং অ্যাপ এবং প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করা এবং বড় আকারের কর ফাঁকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

ইডি সূত্র জানিয়েছে, এই বেটিং প্ল্যাটফর্মগুলি ভারতে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও 1xBet এবং 1xBet Sporting Lines-এর মতো ছদ্মনাম ব্যবহার করে গোপনে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এই বিজ্ঞাপনগুলিতে প্রায়শই QR কোড থাকে, যা ব্যবহারকারীদের সরাসরি বেটিং সাইটগুলিতে নিয়ে যায়। তদন্তকারীদের দাবি, 1xBet একটি আন্তর্জাতিক বাজি সংস্থা যা ক্রিকেট ম্যাচ থেকে শুরু করে ই-স্পোর্টস পর্যন্ত সব কিছুতেই বাজি ধরার সুযোগ দেয় এবং এর বেশিরভাগ লেনদেনই ভারতে অবৈধ।