নিয়োগ দুর্নীতি, ‘২৫ হাজারের জীবন নষ্ট’, জীবনকৃষ্ণ সাহার জামিনের আবেদন ফের খারিজ আদালতের

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার জামিনের আবেদন ফের খারিজ করে দিল আদালত। বৃহস্পতিবার কলকাতার বিচারভবনে ইডির বিশেষ আদালতে তাঁর জামিনের শুনানি হয়। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর বিচারক বিধায়কের আর্জি খারিজ ক’রে আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

আদালতের এই কঠোর অবস্থান নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এক নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন আইনের বিশেষজ্ঞরা।

ইডির চাঞ্চল্যকর দাবি, বিধায়কের ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টে লেনদেন
শুনানিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তরফে এদিন চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। সংস্থার আইনজীবী জানান, নিয়োগ দুর্নীতির অর্থনৈতিক লেনদেনে জীবনকৃষ্ণ সাহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়া টাকার উৎস এবং গন্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইডির দাবি, শুধু অভিযুক্ত বিধায়ক নন, তাঁর ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্ট থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।

ধৃত বিধায়কের দেওয়া বয়ান এবং চাকরিপ্রার্থীদের বয়ান মিলিয়ে দেখা গিয়েছে যে, একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে এবং তার উৎসও প্রায় স্পষ্ট।

আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ
জামিনের শুনানির সময় বিচারক জীবনকৃষ্ণ সাহার আইনজীবীর উদ্দেশে যে মন্তব্য করেন, তা ছিল অত্যন্ত কঠোর। বিচারক বলেন,

“আপনার মক্কেল যে অপরাধ করেছেন, তা কিন্তু স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে।”

একইসঙ্গে বিচারকের পর্যবেক্ষণ, “২৫ হাজারের জীবন নষ্ট হয়েছে” — যা এই মামলায় আদালতের কঠোর অবস্থানকেই প্রকাশ করে।

দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকা এবং চার্জশিট দাখিল হয়ে যাওয়ার পরও তাঁকে আটকে রাখা অন্যায় বলে বিধায়কের আইনজীবী যে যুক্তি দেন, তা আদালত ইডির যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে খারিজ করে দেয়।

উল্লেখ্য, স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই প্রথমে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। এরপর অগস্ট মাসে ইডি তাঁকে ফের গ্রেফতার করে এবং পুজোর ছুটির মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। আদালতের নির্দেশে আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত তৃণমূল বিধায়ককে জেল হেফাজতেই থাকতে হবে।