১৭০ বছরের পুরোনো বর্ধমান জংশনের ইটে লুকিয়ে শতবর্ষের গল্প! কেন আজও এই স্টেশন লক্ষ মানুষের রুটিরুজি?

পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চম সর্বাধিক জনবহুল বর্ধমান শহরের ‘প্রাণস্পন্দন’ হলো তার প্রাচীন রেল স্টেশন। ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়া এই স্টেশনটি কেবল যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র নয়, এর প্রতিটি ইটে লুকিয়ে আছে শতবর্ষের গল্প, অবিস্মরণীয় স্মৃতি আর লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রার ইতিহাস। ১৭০ বছর আগে চালু হওয়া এই স্টেশন আজও কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত ও রুটি-রোজগারের পথ।
১৮৫৫: এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত
ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ জানান, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম রেল পরিষেবা চালু হয় ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে পান্ডুয়া পর্যন্ত। আর তার ঠিক পরেই, ১৮৫৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, হাওড়া থেকে প্রথম ট্রেন এসে পৌঁছয় বর্ধমানে। যদিও সেই দিন রানিগঞ্জ পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বর্ধমানেই ট্রেন যাত্রা শেষ করে।
ঐতিহাসিক সেই দিনে, ট্রেনটি প্রায় ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় নিয়ে হাওড়া থেকে বর্ধমান পৌঁছয়। চারদিকে তখন সাজ সাজ রব। সেই আদি পথটিই বর্তমানে ‘মেন লাইন’ নামে পরিচিত। প্রায় ৫০ বছর পরে চালু হয় কর্ড লাইন।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, হাওড়া থেকে পতাকা দেখিয়ে গর্ভনর জেনারেল লর্ড ক্যানিং এই ট্রেনের সূচনা করেছিলেন। সেই দিনে বর্ধমানের রাজা স্বয়ং প্রথম ট্রেনে আগত যাত্রীদের স্বাগত জানান এবং তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও করেন।
কয়লার রুট থেকে আধুনিক জংশন
ইংরেজরা মূলত রানিগঞ্জ থেকে কয়লা নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই রেলপথ তৈরি করেছিল। সময় থেমে থাকেনি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে বর্ধমান স্টেশনকে ক্রমাগত উন্নত করা হয়েছে। বর্তমানে এই স্টেশনটি ৮টি প্ল্যাটফর্ম বিশিষ্ট। সারা দিনে প্রায় ৩০০টিরও বেশি এক্সপ্রেস, মেইল, এসএফ ট্রেন এখানে থামে, যা এর গুরুত্বকে প্রমাণ করে।
ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ বলেন, বর্ধমান রেল স্টেশন একটি ঐতিহাসিক রেল স্টেশন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্টেশনটি বর্তমানে নবরূপায়ণ হচ্ছে, কিন্তু পুরনো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখে যেন নবরূপায়ণ হয়, সেই দিকটিও দেখতে হবে। এই প্রাচীন স্টেশনটি কেবল যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র নয়, এটি ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য এবং অবিস্মরণীয় ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী।