উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সিনহার গাড়িতে হামলা, ‘এনডিএ এলে বুকে চলবে বুলডোজার’, তোলপাড় বিহারের রাজনীতি

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটগ্রহণ চলাকালীনই চরম উত্তেজনার ঘটনা ঘটল রাজ্যের লখিসরাই কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহার গাড়িতে হামলা চালায় কিছু লোক। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে চপ্পল ছোঁড়া হয় এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে “মুর্দাবাদ” স্লোগান দেওয়া হয়।

এই ঘটনার জন্য উপ-মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) গুন্ডাদের দায়ী করেছেন এবং তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এনডিএ ক্ষমতায় আসছে… ওদের বুকে বুলডোজার চলবে।”

বিজয় সিনহার বিস্ফোরক অভিযোগ
এএনআই-এর সঙ্গে কথা বলার সময় বিজয় সিনহা বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার খোরিয়ারি গ্রামের ৪০৪ এবং ৪০৫ নম্বর বুথ পরিদর্শনের সময় আরজেডি-এর সমর্থকরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলে। তারা পাথর ও গোবর ছোঁড়ে এবং “মুর্দাবাদ” স্লোগান দেয়।

তিনি অভিযোগ করেন, “এরা আরজেডি-র গুন্ডা। গুন্ডারা আমাকে গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না। ওরা আমার পোলিং এজেন্টকে তাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাকে ভোট দিতে দেয়নি… ওদের গুন্ডামি দেখুন।” এই ঘটনার পরপরই উপ-মুখ্যমন্ত্রী ফোনে পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মীরা উপস্থিত হন।

‘রুটি পুড়ে গেলে ফেলে দেওয়া হয়’— জেডিইউ-এর পাল্টা
এদিকে, নির্বাচনের দিনই বিহারে সরকার পরিবর্তনের স্লোগান নিয়ে আরজেডি এবং জেডিইউ-এর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে।

সকালে ভোট দেওয়ার পর আরজেডি প্রধান ও বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, “তাওয়ায় রুটি উল্টেপাল্টে দেওয়া উচিত, নইলে পুড়ে যাবে (২০ বছর অনেক লম্বা সময়!) এখন, যুবকদের সরকার এবং নতুন বিহারের জন্য, একটি তেজস্বী সরকার অত্যন্ত প্রয়োজন।”

লালু যাদবের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জেডিইউ নেতা অশোক চৌধুরী আরজেডি-কে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি এএনআই-কে বলেন, “জো রোটি জল যাতি হ্যায়, উসকো ফেঙ্ক দিয়া যাতা হ্যায়” (যে রুটি পুড়ে যায়, তা ফেলে দেওয়া হয়)।

অশোক চৌধুরী বিহারের জনগণকে মনে করিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান যে, “এই সেই বিহার যা আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত শাসন করেছিল” এবং উন্নয়নের জন্য জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভোট দিতে হবে।

প্রথম দফার ভোটের হার
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোট পড়েছে ৪২.৩১ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮টি জেলার মধ্যে গোপালগঞ্জে সর্বোচ্চ ৪৬.৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে রাজধানী পাটনায় সব জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে, যার হার ছিল ৩৭.৭২ শতাংশ।