বিহার নির্বাচন ঘিরে সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা, আন্তঃরাজ্য অপরাধ দমনে জরুরি বৈঠকে দুই রাজ্যের পুলিশ

প্রতিবেশী বিহারে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে তৎপর হয়েছে দুই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীনই বুধবার রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের পুলিশকর্তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে মূলত বিহার নির্বাচনের নিরাপত্তা এবং বিহার লাগোয়া উত্তর মালদার গ্রামগুলিতে ঘটে যাওয়া আন্তঃরাজ্য অপরাধের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়।
আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও ১২২টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখাই প্রধান লক্ষ্য।
বৈঠকে রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকরা বিহার লাগোয়া হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল ও রতুয়া থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কথা বিশদে তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁরা বিহারের কুখ্যাত অপরাধীদের যোগাযোগের বিষয়টি খুঁজে পেয়েছেন।
সম্প্রতি, হরিশ্চন্দ্রপুরের বারোদুয়ারি গ্রামে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অরুণ জিন্দালের বাড়িতে বড়সড় ডাকাতির সিসিটিভির ফুটেজেও বিহারের অপরাধীদের যোগ পাওয়া গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ অভিযোগ করে, দুষ্কৃতীরা বাংলায় অপরাধ করে দ্রুত বিহারে গা-ঢাকা দেওয়ায় তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে বিহার পুলিশের সহায়তায় দু-এক জন গ্রেফতার হলেও অধিকাংশ দুষ্কৃতী এখনও অধরা।
নিরাপত্তা ও পাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ
বিহারের বারসই জেলার ডিএসপি অমিত কুমার জানান, বিহার বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করতেই দুই রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন থানাগুলির সঙ্গে এই সমন্বয় বৈঠক করা হচ্ছে। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল:
নির্বাচন চলাকালীন বাংলা থেকে যাতে মদ ও আগ্নেয়াস্ত্র বিহারে না-ঢুকতে পারে।
দুই রাজ্যের পুলিশ সমন্বয় রেখে কাজ করবে, যাতে বেআইনি জিনিস পাচারকারীরা ধরা পড়ে।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় দুই রাজ্যের চেক পোস্টে যাতায়াতকারী সবাইকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ডিএসপি অমিত কুমার আশ্বাস দেন, তাঁরা খুব দ্রুত সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বাড়াবেন। তিনি আরও জানান, সীমান্তে তাঁদের রাজ্যে সিসিটিভির পরিমাণ কম থাকলেও নতুন করে সিসিটিভি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত তা শেষ হবে।
দুই রাজ্যের পুলিশই সহমত হয়েছে যে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে কোনোভাবেই দুষ্কৃতী বা অবৈধ জিনিস পাচারের সুযোগ না পায়।