SIR-বিরোধী প্রস্তাব আসছে? বিধানসভায় প্রস্তুতি শুরু করলো তৃণমূল শিবির

রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। একদিকে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন বুথ লেভেল অফিসারেরা, অন্যদিকে SIR-এর বিরোধিতায় পথে নেমেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার এই সংঘাতকে বিধানসভার অভ্যন্তরে নিয়ে যেতে চাইছে তৃণমূল।
সূত্রের খবর, শাসক শিবির বিধানসভার আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব (Resolution) আনার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। দলীয় নেতৃত্বের ‘সবুজ সংকেত’ মিললেই এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হতে পারে।
🗣️ মমতার ‘অভয়বার্তা’ ও তৃণমূলের কৌশল
মঙ্গলবার তৃণমূলের মেগা মিছিল থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ভোটারদের ‘অভয়বার্তা’ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
“দিদি এখনও আছে! ভয় পাবেন না। ওরা কারও নাম বাদ দিতে পারবে না। যাঁদের কোনও কাগজ নেই, তাঁরা তৃণমূলের ক্যাম্পে যান। আমাদের কর্মীরা সমন্বয় করে সব তৈরি করার বন্দোবস্ত করবে।”
দলনেত্রীর এই বক্তব্যের পরই শাসক দল বিধানসভাকে হাতিয়ার করে এই ইস্যুতে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হতে চাইছে।
🛑 কেন বিধানসভার প্রস্তাব?
এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই এই সংশোধনী প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে সাধারণ মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন এবং রাজ্যে একে পর এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। এই আবহে বিধানসভায় প্রস্তাব আনার একাধিক কারণ রয়েছে:
বিজেপিকে কোণঠাসা করা: বিধানসভার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের বিরুদ্ধে শাসক দলের অবস্থান স্পষ্ট করা।
ভোটারদের বার্তা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে এই ‘আতঙ্কের’ বিরুদ্ধে লড়াই করার বিষয়ে আস্থা তৈরি করা।
রাজনৈতিক গুরুত্ব: আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই শীতকালীন অধিবেশনই বর্তমান বিধানসভার শেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন। তাই রাজনৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অনেক।
উল্লেখ্য: ইতিমধ্যে কেরল বিধানসভায় এসআইআর-এর বিরুদ্ধে অনুরূপ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। তৃণমূলও সেই পথেই হেঁটে রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে।
📄 গোপনীয়তা বজায় রাখছে শাসক দল
যদিও তৃণমূল পরিষদীয় দলের অন্দরে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে প্রস্তাবের খসড়া বা সময় নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশ পেলেই দ্রুত প্রস্তাবটি অধিবেশনে আনা হবে বলে খবর।