উপহারে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ ম্যাপ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাংলাদেশের অংশ দেখিয়ে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে বই দিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের একটি পদক্ষেপকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইউনুস সম্প্রতি পাকিস্তানের সামরিক প্রধান এবং তুরস্কের একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে ‘আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ’ নামক যে শিল্পকর্মটি উপহার দিয়েছেন, তার কভারে ভারতের অসম সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ চিত্রকল্পের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করে আসছে।

একই ধাঁচের উপহার: পাকিস্তান থেকে তুরস্ক
ইউনুসের এই উপহার দেওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নের অংশ:

পাকিস্তান: গত ২৬ অক্টোবর, ঢাকায় পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার সঙ্গে সাক্ষাতে ইউনুস তাঁকে ‘আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ’ বইটি তুলে দেন।

তুরস্ক: এর মাত্র কয়েক দিন পর, ৩ নভেম্বর, ঢাকায় তুর্কি সংসদের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা মেহমেত আকিফ ইয়িলমাজকেও তিনি একই বই উপহার দেন।

বইটির কভারে ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্ব রাজ্য—বিশেষ করে আসাম, অরুণাচল, ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং মেঘালয়কে—বাংলাদেশের সীমান্তে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে।

বইয়ের ভেতরে ‘যুদ্ধ পরিকল্পনা’র ইঙ্গিত
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শিল্পকর্মটির সঙ্গে যুক্ত দলিলে ‘যুদ্ধ পরিকল্পনা’ (Battle Plans) এবং ‘বিজয়োত্তর শাসন ব্যবস্থা’ (Post-Victory Frameworks) সম্পর্কে ইঙ্গিত রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই দলিল আসামকে ‘উৎপাদনশীল এবং বাস্তবসম্মত অঞ্চল’ হিসেবে বাংলাদেশের অধীনে রূপান্তরিত করার কথা বলে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল শিল্প নয়, বরং ইউনুস বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে একটি আদর্শগত সংকেত দিয়েছেন।

ভূ-রাজনৈতিক জোটের জল্পনা
ড. ইউনুসের এই পদক্ষেপকে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে তুরস্ক, যারা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব কমাতে আগ্রহী, এবং পাকিস্তানের মতো দেশকে এমন উপহার দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—ইউনুস কি চীন, পাকিস্তান এবং তুরস্ককে নিয়ে একটি নতুন জোট গড়ার চেষ্টা করছেন?

ভারতে প্রশ্ন উঠেছে, প্রধান উপদেষ্টা কি উন্মুক্তভাবে ভারতকে উসকানি দিচ্ছেন? সময় এসেছে কি তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার?

এই ঘটনায় দিল্লি-ঢাকা কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।