রাজস্থানে ১৮ জনের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসল সরকার! ১৫ দিনব্যাপী সড়ক নিরাপত্তা অভিযান শুরু, বাতিল হবে মদ্যপ চালকদের লাইসেন্স

চলতি মাসের শুরুতেই রাজস্থানে পরপর দুটি ভয়ংকর পথ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল রাজ্য সরকার। বেপরোয়া এবং বিশেষত মদ্যপ চালকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে ৪ নভেম্বর থেকে ১৫ দিনব্যাপী রাজ্যব্যাপী সড়ক নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে রাজস্থান সরকার। এই কর্মসূচী চলবে আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত।
মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার নির্দেশে এই কর্মসূচী চলছে এবং মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় সরাসরি এর উপর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।
লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত ও কঠোর ব্যবস্থা
এই বিশেষ অভিযানের আওতায় পরিবহন ও পুলিশ বিভাগ একাধিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে:
লাইসেন্স বাতিল: মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো বা বারবার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ধরা পড়া ব্যক্তিদের ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত এবং বাতিল করা শুরু হয়েছে।
এনফোর্সমেন্ট: মহাসড়কগুলিতে টহল জোরদার করেছে পুলিশ। বেপরোয়া এবং ভুল দিকে গাড়ি চালানো রোধ করার জন্য প্রধান সড়কগুলিতে এনফোর্সমেন্ট টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
অবৈধ স্থাপনা অপসারণ: গণপূর্ত বিভাগ এবং জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) দুর্ঘটনা রোধ করতে অবৈধ রাস্তার ধারের স্থাপনা অপসারণ শুরু করেছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা:
পালোধি দুর্ঘটনা: ২ নভেম্বর দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরিকে ধাক্কা মারে পর্যটকবাহী গাড়ি, ঘটনায় প্রায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়।
জয়পুর দুর্ঘটনা: ৩ নভেম্বর জয়পুরের লোহামন্ডী রোডের কাছে বেপরোয়া ট্রাক ১৭টি গাড়িকে পিষে দেয়, অভিযোগ ওঠে ট্রাক চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
স্বাস্থ্যে ও সচেতনতায় জোর
রাজ্য সরকার এই অভিযানে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী চালকদের চোখের পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার শিকারদের জন্য ট্রমা কেয়ার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ম, সঠিক লেন ড্রাইভিং এবং হেলমেট ও সিট বেল্ট ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও ১৫ দিনের কর্মসূচী শেষে চালকরা ফের অনিয়ম শুরু করবেন কি না, সেই বিষয়ে সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে রাজ্যের সচেতন মহল।