উৎসবের মেজাজে ভোট: মহিলা ও বিশেষভাবে সক্ষমদের হাতে ৯০০-রও বেশি বুথ, কমিশনের কড়া নির্দেশিকা!

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার প্রচারের জমজমাট অধ্যায় এখন শেষ লগ্নে। আজ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সব ধরনের প্রচার শেষ হয়ে যাবে। এরপর প্রার্থীদের হাতে থাকবে কেবল ২৪ ঘণ্টা সময়। দীর্ঘদিনের এই নির্বাচনী প্রচারের সময় নেতারা জনসভা, সমাবেশ ও রোড শো-এর মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। এখন শেষ মুহূর্তে, প্রতিটি প্রার্থী ভোটারদের দরজায় দরজায় গিয়ে ব্যক্তিগত বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ‘শেষ মুহূর্তের কৌশল’ নিয়ে ব্যস্ত।
প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ ও ভোটার সংখ্যা
৬ নভেম্বর প্রথম দফায় বিহারের ১৮টি জেলার ১২১টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই দফায় মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই ভোটারদের রায়ে ১,৩১৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (EVM) সিল হয়ে যাবে।
কমিশনের কড়া নির্দেশিকা ও বিশেষ ব্যবস্থা
নির্বাচন কমিশন সকল পর্যবেক্ষককে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে যে, ভোটের দিন কেন্দ্রে উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিতে আসেন। এর পাশাপাশি, মোবাইল জমা দেওয়ার সুবিধা, নতুন ভিআইএস (Voter Information Slip) স্লিপ, ইসিআইনেট (ECINet) অ্যাপের ব্যবহার এবং বুথগুলিতে শতভাগ ওয়েবকাস্টিং ও রিপোর্টিং-এর জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
প্রথম দফার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ১২২ জন সাধারণ, ১৮ জন পুলিশ এবং ৩৩ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে।
আসনগুলির চমকপ্রদ পরিসংখ্যান
- সবচেয়ে বেশি ভোটার: দিঘা বিধানসভা কেন্দ্রে (৪,৫৭,৬৫৭ ভোটার)।
- সবচেয়ে কম ভোটার: বারবিঘা বিধানসভা কেন্দ্রে (২,৩১,৯৯৮ ভোটার)।
- সবচেয়ে ছোট আসন (ক্ষেত্রফল): বাকিপুর বিধানসভা (১৬.২৩৯ বর্গ কিমি)।
- সবচেয়ে বড় আসন (ক্ষেত্রফল): সূর্যগড়া বিধানসভা (৬২৪.৭৫১ বর্গ কিমি)।
বুথে বিশেষ ব্যবস্থা
প্রথম দফায় মোট ৪৫,৩২৪টি ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬,৭৩৩টি বুথ গ্রামীণ এবং ৮,৬০৮টি বুথ শহুরে এলাকায় অবস্থিত।
- মহিলা পরিচালিত বুথ: ৯২৬টি বুথের দায়িত্বে থাকবেন শুধুমাত্র মহিলারা।
- বিশেষভাবে সক্ষম পরিচালিত বুথ: ১০৭টি বুথ পরিচালনা করবেন বিশেষভাবে সক্ষম কর্মীরা।
- মডেল বুথ: ৩২০টি মডেল বুথও তৈরি করা হয়েছে।
- প্রতিটি বুথে গড়ে ৮২৭ জন ভোটার ভোট দেবেন।
এই প্রথম দফা কেবল রাজনৈতিক দলগুলির জন্যই নয়, বরং প্রশাসনিক কাঠামোর জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা কতখানি উদ্দীপনার সঙ্গে গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশ নেন।