মার্কিন চাপে রুশ তেল বন্ধ! পুরোদমে ইউ-টার্ন নিল ৭ লাখ ব্যারেলের জাহাজ, বাজারে কী হবে?

দীর্ঘদিন ধরে চলা ওয়াশিংটন, মস্কো এবং নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ‘চু-কিতকিত খেলা’ এবার দেশের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে সরাসরি আঘাত হানতে চলেছে। রাশিয়ার থেকে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানির ওপর পশ্চিমা বাণিজ্যিক অবরোধের আঁচে এবার সেঁকা হতে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের রুটি। এর মূল কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে ভারত কৌশলগতভাবে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এর নিশ্চিত প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে।

বাল্টিক সাগরে থমকে ইউ-টার্ন নিল রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ

রাশিয়া থেকে অতি সস্তায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হতে বসায়, দেশীয় বাজারে তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এখন অবশ্যম্ভাবী। যদিও সামনে বিহার বিধানসভা নির্বাচন থাকায়, কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধির ‘গলার কাঁটা’ গলাতেই আটকে রাখতে চাইছে। এই মুহূর্তে তেল-গ্যাসের দাম বাড়লে হু-হু করে বাড়বে বাজারদর, এবং জিএসটি কাঠামো বদলের গ্যাস বেলুন একেবারে ‘ফুস’ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে ৭ লক্ষ ৩০ হাজার ব্যারেল ইউরাল তেল বহনকারী রাশিয়ার বৃহৎ অপরিশোধিত তেলের জাহাজ ‘ফিউরিয়া’-কে ঘিরে। এই জাহাজটির গুজরাতের সিক্কা বন্দরে আসার কথা ছিল, কিন্তু গত ২৮ অক্টোবর থেকে এটি বাল্টিক সাগরে থমকে দাঁড়িয়ে রয়েছে রুশ অবরোধের জেরে। জাহাজ ট্র্যাককারী সংস্থা জানিয়েছে, জাহাজটি ডেনমার্ক ও জার্মানির মধ্যবর্তী ফেহমার্ন বেল্ট স্ট্রেইট-এর দিকে পুরো ইউ-টার্ন নিয়ে নিয়েছে এবং ভারতে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই। কারণ রুশ ‘রোজনেফট’ সংস্থা এবং এই জাহাজটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনের কালো তালিকাভুক্ত।

একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন গত ২২ অক্টোবর রোজনেফট ও লুকওয়েল সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যার প্রভাব ভারতে জ্বালানি বাণিজ্যের উপর পড়তে শুরু করবে আগামী ২১ নভেম্বর থেকে। ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন (IOC) ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক নিয়মবিধি মেনে চলতে বাধ্য। তেলের রাজস্ব সাশ্রয় কমে যাওয়ায় দেশীয় অর্থনীতিতে সরাসরি চাপ পড়বে। ২৮ অক্টোবরের সপ্তাহে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমে মাত্র ১.১৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা দু’সপ্তাহ আগেও দিনপ্রতি ১.৯৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছিল।