অসহায় ড্রাইভারকে সাহায্য করেও মিলল না কৃতজ্ঞতা! স্বার্থী দুনিয়ায় মানবতা আজও কেন জরুরি, শেখাল ওলা রাইড।

জয়পুরের বাসিন্দা আয়ুষী-র একটি ওলা বাইক রাইডের অভিজ্ঞতা সম্প্রতি লিঙ্কডইনে শেয়ার হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। এটি কেবল একটি সামান্য ঘটনা নয়, বরং মানবিকতা, সহানুভূতি এবং এক মায়ের গভীর শিক্ষার বার্তা নিয়ে এসেছে, যা হাজার হাজার মানুষের মন ছুঁয়েছে।
আয়ুষী লিখেছেন, অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি একটি ওলা বাইক বুক করেন। কিছুদূর যাওয়ার পর ড্রাইভার হঠাৎ বাইক থামিয়ে জানায়—পেট্রোল শেষ! সেই মুহূর্তে আয়ুষীর সামনে দুটি পথ খোলা ছিল: রাইড বাতিল করে অন্য ক্যাব বুক করা, অথবা ড্রাইভারের সঙ্গে হেঁটে নিকটবর্তী পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত যাওয়া। তিনি দ্বিতীয় পথটি বেছে নেন।
প্রায় এক কিলোমিটার পথ দুজন হেঁটে পার করেন। পথে অ্যাপে পৌঁছানোর সময় (ETA) ৬:৩৩ থেকে বেড়ে ৭:০০ হয়ে যায়, কিন্তু আয়ুষী কোনও অভিযোগ করেননি। বরং মনে মনে ভাবেন, অন্তত একটু সন্ধ্যা ভ্রমণের সুযোগ তো মিলল। এরপর পেট্রোল ভরে গন্তব্যের পথে রওনা দেন।
৭ টাকার হিসেব ও এক মায়ের অশ্রু
বাড়ি পৌঁছে অ্যাপে ভাড়া দেখাচ্ছিল ১০১ টাকা। আয়ুষী সেই টাকা মিটিয়ে বাইক থেকে নামতে যাবেন, ঠিক তখনই ড্রাইভার পিছন থেকে বলেন, “ম্যাডাম, ১০৮ টাকা হয়েছে।” আয়ুষী বিস্মিত হলেও বললেন, “অ্যাপে তো ১০১ দেখাচ্ছে।” ড্রাইভার সামান্য হেসে বলেন, “হয়তো বেড়ে গেছে।” আয়ুষী অতিরিক্ত ৭ টাকা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন।
মাকে পুরো ঘটনা বলার পরই আয়ুষীর চোখে জল চলে আসে। কান্না শুধু ৭ টাকার জন্য নয়, বরং তার সহানুভূতির কোনও মূল্য না পাওয়ায়। তিনি ড্রাইভারকে সাহায্য করলেন, হেঁটে গেলেন, দেরি হলো, কিন্তু তার ভুল সত্ত্বেও ড্রাইভার সেই অতিরিক্ত ভাড়ার টাকা চাইল।
এ সময় তার ভাই হাসতে হাসতে বলে, “সাত টাকার জন্য কাঁদছিস?” কিন্তু মা তার পাশে এসে দাঁড়ালেন। মা বললেন, “কখনও কখনও মানুষ নিজেদের সমস্যায় এত ডুবে থাকে যে তারা আশেপাশের ভালোটা দেখতে পায় না। এর মানে এই নয় যে তোমার দয়া বৃথা গেছে। সে হয়তো নিজের চিন্তায় এত মগ্ন ছিল যে তোমার সহানুভূতি অনুভব করতে পারেনি।”
মায়ের এই গভীর কথাটিই পোস্টটিকে ভাইরাল করে তোলে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আজকের এই স্বার্থী ও ব্যস্ত দুনিয়ায় মানবিকতা এখনও জীবিত। দয়া বা সহানুভূতি, তা অন্য কেউ উপলব্ধি করুক বা না করুক, তা সব সময় দাতার মনকে আলোকিত করে তোলে। আয়ুষীর এই পোস্টটিতে লিঙ্কডইনে দুই হাজারেরও বেশি লাইক এবং শত শত মন্তব্য এসেছে।