অর্থনীতিতে এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী! আজ ৯২তম জন্মদিনে জানুন অমর্ত্য সেনের জীবন ও কাজের গল্প

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন আজ, ৩ নভেম্বর, তাঁর ৯২তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। তিনি হলেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী প্রথম এশীয় ব্যক্তি। ১৯৯৮ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ১৯৯৯ সালে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্ন প্রদান করা হয়। অমর্ত্য সেন তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ ভারতের বাইরে কাটালেও, তাঁর কাজ সব সময় ভারত এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলির দারিদ্র্য ও তা দূর করার উপায়ের ওপর নিবদ্ধ ছিল। তাঁর জন্মদিনে রইল এই কিংবদন্তি অর্থনীতিবিদের জীবন ও কর্মের কিছু জানা-অজানা কথা।
শিক্ষা ও কর্মজীবন
১৯৩৩ সালের ৩ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে অমর্ত্য সেনের জন্ম হয়। তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ থেকে বিএ, এমএ এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি ইউনিভার্সিটি, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং লন্ডন ইউনিভার্সিটি সহ ভারত ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়িয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৮ সালে তাঁকে ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের মাস্টার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ২০০৪ সাল পর্যন্ত এই পদে থাকার পর তিনি ল্যামন্ট ইউনিভার্সিটি প্রফেসর হিসেবে হার্ভার্ডে ফিরে যান।
দুর্ভিক্ষ নিয়ে নতুন তত্ত্ব
অমর্ত্য সেন তাঁর ‘অকাল বা দুর্ভিক্ষ কারণ’ (Causes of Famine) নিয়ে কাজের জন্য সুপরিচিত। খাদ্য ঘাটতির বাস্তব বা অনুমিত প্রভাব সীমিত বা বন্ধ করার জন্য ব্যবহারিক সমাধান তৈরি করতে তাঁর এই গবেষণাটি সফল হয়েছিল। ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল। এই অকাল প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেনের ধারণা ছিল, সেই সময় ভারতে খাবারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল, কিন্তু খাদ্য বণ্টনে মারাত্মক সমস্যা ছিল।
পুরস্কার ও সম্মান
অমর্ত্য সেন ১৯৯৮ সালে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে ‘কল্যাণমূলক অর্থনীতিতে নৈতিকতার জন্য কাজ’, ‘সোশ্যাল চয়েস থিওরি’, এবং ‘দারিদ্র্য ও কল্যাণের পরিমাপের ধারণা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার’ জন্য অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি ১৯৯৯ সালে ভারতরত্ন এবং ২০১২ সালে ফ্রান্সের লেজিওঁ দ’অনার (Legion d’Honneur) সহ পাঁচটি মহাদেশের প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০টিরও বেশি সম্মানসূচক উপাধি পেয়েছেন।