কেইএম হাসপাতালের ভিতরে হামলা, ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগে রেসিডেন্ট ডাক্তারকে ছুরি মারল প্রেমিকার তিন ভাই, অবস্থা আশঙ্কাজনক

মুম্বইয়ের কেইএম হাসপাতালের ভিতরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যা শহরে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ২৬ বছর বয়সী ডাক্তার বিশাল যাদবকে তাঁর প্রেমিকার তিন ভাই— ফরিদ খান, নাবিল এবং আলিশান— ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে গুরুতর আহত করেছে। হাসপাতালের কর্মরত অবস্থায় এই হামলা হয়, এবং বিশাল বর্তমানে আইসিইউ-তে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশাল যাদব, যিনি কেইএম হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের রেসিডেন্ট ডাক্তার, তাঁর ডিউটি শেষ করে ওয়ার্ড থেকে বের হচ্ছিলেন। হঠাৎ তিন যুবক ফরিদ (২৮), নাবিল (২৫) এবং আলিশান (২২) তাঁকে ঘিরে ধরে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা বিশালকে পিছন থেকে ধরে পেট, বুক এবং পিঠে একাধিক ছুরিকাঘাত করে। সহকর্মী ডাক্তার এবং নার্সরা চিৎকার করে ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায়।
চিকিৎসকের অবস্থা সংকটজনক
বিশাল যাদবকে তাৎক্ষণিকভাবে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, “তাঁর পেটে গভীর ক্ষত, ফুসফুসে আঘাত এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।”
পুলিশ কমিশনার বিবেক ফনসালকর জানিয়েছেন, “আমরা আইপিসি ৩০৭ (খুনের চেষ্টা), ১২০বি (ষড়যন্ত্র) এবং ৩৪ (যৌথ অপরাধ) ধারায় মামলা দায়ের করেছি। তিনজনকে ধরতে স্পেশাল টিম গঠন করা হয়েছে।” সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল লোকেশনের ভিত্তিতে তাদের খোঁজে তীব্র অভিযান চলছে।
হামলার নেপথ্যে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার পিছনে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ। বিশালের সঙ্গে হামলাকারীদের বোনের (২৩), যিনি মুম্বইয়ের একটি কলেজের ছাত্রী, প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটির সঙ্গে বিশালের পরিচয় হয় হাসপাতালে চিকিৎসার সময়।
হামলাকারীদের পরিবারের অভিযোগ, বিশাল তাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার চেষ্টা করছিলেন। ফরিদ খানের এক বন্ধু এক সাক্ষাৎকারে বলেছে, “আমাদের বোনকে সে ভুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা বারবার সতর্ক করেছি, কিন্তু সে শোনেনি।”
তবে বিশালের পরিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁর বাবা, যিনি উত্তরপ্রদেশের একজন শিক্ষক, বলেছেন, “আমার ছেলে কোনো ধর্মান্তরণের কথা বলেনি। এটা প্রেমের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু তারা ধর্মের নামে খুন করতে চাইছে।”
এই ঘটনা মুম্বইয়ের চিকিৎসক সমাজকে ক্ষুব্ধ করেছে। রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আরডিএ) ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে এবং কেইএম হাসপাতালে এখন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।