কেরল হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়, মোহনলালের হাতির দাঁত রাখার সরকারি ছাড়পত্র ‘অবৈধ’, ১৪ বছর পর পুনরুজ্জীবিত পুরনো মামলা

এক দশকেরও বেশি সময় আগের ঘটনা। ২০১১ সালে মালয়ালম সুপারস্টার মোহনলালের বাড়িতে আয়কর দফতরের হানায় উদ্ধার হয়েছিল চার জোড়া হাতির দাঁত এবং ১৩টি খোদাই করা আইভরির শিল্পবস্তু। সেই সময় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী যা ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা ‘বৈধ সম্পত্তি’-তে পরিণত হয়। সম্প্রতি কেরল হাইকোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে ভেঙে গেল সেই ‘বৈধতার ভ্রম’।
২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে জয়শঙ্করন নাম্বিয়ার ও জোবিন সেবাস্টিয়ানের বেঞ্চ স্পষ্ট জানাল—মোহনলালের আইভরি রাখার সরকারি ছাড়পত্র ও মালিকানা সনদ ‘অবৈধ, বাতিল ও আইনবহির্ভূত’।
আইন কী ছিল, আর সরকার কী করেছিল?
২০১১ সালে হাতির দাঁত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর মামলা যায় আদালতে। অভিনেতা দাবি করেন, দাঁতগুলো একটি বন্দি হাতির স্বাভাবিক মৃত্যুতে পাওয়া গিয়েছিল এবং তিনি তা ‘স্মৃতি হিসেবে’ রেখেছিলেন।
এরপর ২০১৫ সালে রাজ্য সরকার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে বলা হয় যাদের কাছে আগে থেকেই হাতির দাঁত বা অনুরূপ সামগ্রী আছে, তারা জানালে মালিকানার সুযোগ পাবেন। মোহনলাল সেই সুযোগ নেন। রাজ্যের প্রধান বন্যপ্রাণ সংরক্ষক তাঁর দাবি যাচাই করে মালিকানা দেয় এবং সরকার আদালতে গিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।
কিন্তু একদল অবসরপ্রাপ্ত বনকর্মী ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণবিদ হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। তাঁদের দাবি ছিল, এই বিজ্ঞপ্তি সরকারি গেজেটে কখনও প্রকাশই হয়নি, ফলে এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তাঁদের যুক্তি, আইন প্রয়োগের জন্য গেজেটে প্রকাশ বাধ্যতামূলক এবং স্বচ্ছতার একমাত্র প্রক্রিয়া।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: ‘সুবিধামতো পদক্ষেপ’
হাইকোর্ট এই অভিযোগকে সমর্থন করে স্পষ্ট জানায়:
“আইন যে রীতিতে প্রয়োগের কথা বলেছে, তা না মেনে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগই হয় না। গেজেটে প্রকাশ না করায় ওই বিজ্ঞপ্তি ও মালিকানা শুরু থেকেই অবৈধ। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আইনি নয়, বরং সুবিধামতো।”
এক অবসরপ্রাপ্ত বনকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যদি কোনো সাধারণ নাগরিকের ঘরে দাঁত পাওয়া যেত, তিনি আজ জেলে থাকতেন। সরকার পুরো প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে একজন অভিনেতার জন্য।”
তবে আদালত তাৎক্ষণিক বাজেয়াপ্তির নির্দেশ দেয়নি। আদালত বলেছে, সরকার চাইলে নতুন করে আইনসঙ্গত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই রায় প্রমাণ করে ক্ষমতাবানদের সুবিধার্থে ‘প্রক্রিয়াগত ছাড়’ দেওয়ার প্রবণতাটিই ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ছিল। এখন কেরল সরকার নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করবে কিনা, সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।