ক্যান্সার জয় করে উচ্চমাধ্যমিকে নবম স্থান, ‘৮২টি কেমো নিয়েও হার মানিনি’, জীবনযুদ্ধে জয়ী নিমতার অদ্রিজা গণ

জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল নিমতার বাসিন্দা অদ্রিজা গণ। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই ধরা পড়েছিল তার ব্লাড ক্যান্সার (‘টি সেল লিম্ফোমা’)। এরপর সুদীর্ঘ ২ বছর ৮ মাস মুম্বইতে চিকিৎসা চলাকালীন শরীরে চলেছে ৮২টি কেমোথেরাপি। সেই কঠিন লড়াই জয় করে কলকাতার রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুলের ছাত্রী অদ্রিজা উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম পর্বের পরীক্ষায় মেধাতালিকায় নবম স্থান অর্জন করেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৭.৩৭ শতাংশ।

মেয়ের সাফল্যে স্কুলের অবদান অনস্বীকার্য: বাবা
অদ্রিজার বাবা-মা দুজনেই পেশায় স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকা। মেয়ের এই সাফল্যের পিছনে তাঁরা বারবার স্কুলের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। অদ্রিজার বাবা জয়মঙ্গল গণ বলেন, “স্কুলে আমার মেয়ের বিষয়গুলি নেই। শুধুমাত্র আমার মেয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ এই বিষয়গুলির ব্যবস্থা স্কুলে করেছে। একটা লম্বা সময় ও স্কুলে যেতে পারেনি ক্যান্সারের জন্য। তখন স্কুল ওর পাশে থেকেছে। আমার মেয়ের চিকিৎসার সময় থেকে স্কুলের অবদান অনস্বীকার্য।”

অদ্রিজার বাবা জানান, সুস্থ হয়ে উঠলেও এখনও তাঁর মেয়েকে খুবই সাবধানে চলাফেরা করতে হয় এবং তার জন্য এক অন্য লড়াই চলছে। ভবিষ্যতে অদ্রিজা সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়, কারণ এই অভিজ্ঞতার পর মানুষের মনকে বোঝা তার কাছে খুব জরুরি বলে মনে হয়েছে।

মেয়েদের মধ্যে রাজ্যে প্রথম দীপান্বিতা পাল
অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম পর্বে মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারির দৌলতপুর হাইস্কুলের পরীক্ষার্থী দীপান্বিতা পাল। তার প্রাপ্ত নম্বরের হার ৯৮.৪২ শতাংশ এবং মেধাতালিকায় তার স্থান চতুর্থ। দীপান্বিতা বলছে, “খুবই আনন্দ লাগছে আমার। এতটা আশা করিনি। আমি নিউজ চ্যানেলে আমার নাম শোনার পর বিশ্বাস করতে পারিনি।” মাধ্যমিকে ত্রয়োদশ স্থান অর্জন করা দীপান্বিতা এবার জয়েন্ট এন্ট্রান্সের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কলকাতা থেকে অন্যান্য কৃতী
মেধাতালিকায় কলকাতা থেকেও উল্লেখযোগ্য স্থান অর্জন করেছে আরও দুই কৃতী।

গোলাম ফইজল: কমার্স বিভাগের ছাত্র হিসেবে সে একমাত্র মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এবং কমার্স বিভাগ থেকে প্রথম হয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৭.৫০ শতাংশ। ভবিষ্যতে তার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) নিয়ে পড়াশোনার ইচ্ছা আছে।

স্নেহা সুরাই: গার্ডেন রিচের এই ছাত্রী নিউ আলিপুরের বিদ্যা ভারতী স্কুলের ছাত্রী। সে মেধাতালিকায় দশম স্থান অর্জন করেছে এবং তার প্রাপ্ত নম্বরের হার ৯৭.৩০ শতাংশ।