‘লাশের রাজনীতি করছে তৃণমূল’! SIR-NRC বিভ্রান্তি নিয়ে আত্মহত্যার সম্পূর্ণ দায় মুখ্যমন্ত্রীর, বিস্ফোরক অভিযোগ রাহুল সিনহার

ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের (SIR) আবহে তৈরি হওয়া আতঙ্ক এবং পানিহাটিতে আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘ভয় সৃষ্টির রাজনীতি’ করার অভিযোগ আনলেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট জানান, এই বিভ্রান্তিই আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়ালে তার সম্পূর্ণ দায়ভার মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘লাশের রাজনীতি’র অভিযোগ
রাহুল সিনহা সাংবাদিকদের বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে এসআইআর-এর সঙ্গে এনআরসি-কে গুলিয়ে দিয়ে জনগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করছেন।
💬 রাহুল সিনহার মন্তব্য: “পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এখন লাশের রাজনীতি করছে—যেখানে তারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে মৃতদেহের রাজনীতি করে। আমরা প্রত্যেকে মৃত্যুর প্রতি সহানুভূতিশীল, কিন্তু তৃণমূল সেটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানায়।”
পানিহাটি কাণ্ডে CBI-এর দাবি ও নির্মল ঘোষকে আক্রমণ
পানিহাটির ঘটনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল সিনহা স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে সরাসরি আক্রমণ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, “পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরের অভ্যাস হয়ে গেছে তড়িঘড়ি দাহপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, যেমনটা আর জি কর ঘটনার সময়ও হয়েছিল, যাতে সঠিক ময়নাতদন্ত না হয় এবং মৃত্যুর আসল কারণ আড়াল থাকে।”
এই কারণে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, এই ঘটনায় একমাত্র সিবিআই (CBI)-এর মাধ্যমেই নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব।
ভুয়ো ভোটার তালিকা এবং CAA-এর অবস্থান
রাহুল সিনহা আরও অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস ভুয়ো ভোটার তালিকা তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং যেভাবেই হোক ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চাইছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোটার তালিকা তৈরির জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি বাতলে দিয়েছে।
সিএএ (CAA) নিয়ে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন:
সিএএ হল দেশের একটি বৈধ আইন।
প্রতিবেশী দেশ থেকে আগত হিন্দু, শিখ ও খ্রিষ্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
কিন্তু বাংলাদেশি মুসলমান ও রোহিঙ্গারা যারা বেআইনি অনুপ্রবেশ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে, তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতের মুসলমানরা যারা যুগ যুগ ধরে এই দেশে বসবাস করছেন, তাদের অধিকার দেশের হিন্দুদের সমানই থাকবে।
তিনি ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে কলকাতা পুরসভার অকার্যকর ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, মেয়র দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।