নির্বাচন ভেস্তে দেওয়ার ষড়যন্ত্র! মুহাম্মদ ইউনূসের চরম আশঙ্কা, অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন বয়কটের হুঁশিয়ারি হাসিনার

বাংলাদেশের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে লড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি—এই পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারির এই ভোট ভেস্তে দেওয়ার জন্য দেশের ভিতর ও বাইরে থেকে প্রচেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ।
ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে এক উচ্চস্তরীয় বৈঠকে বলেছেন:
💬 ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্য: “এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং। এই নির্বাচনকে ভেস্তে দেওয়ার জন্য চেষ্টা হবে দেশের মধ্যে এবং বাইরে থেকেও। ছোটখাটো নয়, অনেকগুলি শক্তিশালী বাহিনী এই চেষ্টা করবে। হঠাৎ আক্রমণ হতে পারে।”
ইউনূস আরও জানান, এআই (AI) দিয়ে তৈরি করা ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে ‘সুপরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন ধরনের প্রচার’ চালানো হতে পারে। এর মোকাবিলায় অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার উপর তিনি জোর দিয়েছেন।
নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়া
ড. ইউনূসের এই আশঙ্কার মধ্যেই একটি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের চাপে সরকারের পতন এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার।
হাসিনা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বাইরে থাকলেও তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।
💬 শেখ হাসিনার হুঁশিয়ারি: “শুধু অবাদ, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই দেশকে শান্ত করতে পারে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। তাই তাঁরা ভোট বয়কট করবেন। লক্ষ লক্ষ মানুষকে বঞ্চিত করে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সচল রাখা যায় না।”
রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের বহু নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপন করে রয়েছেন। ইউনূসের প্রশাসন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনে লড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
হাসিনার বিচার: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলা শুরু হয়েছে এবং সরকারি আইনজীবী তাঁর মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।
আওয়ামী লীগের মিছিল: এদিকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করতে হঠাৎ রাজধানী ঢাকায় মিছিল করায় পুলিশ পাঁচজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-র প্রধান তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। ইউনূসের প্রশাসনের কাছে এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।