বিহারের মানুষের বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে না দুই দল’! প্রধানমন্ত্রী মোদী বললেন, ‘দুই যুবরাজ মিথ্যা প্রতিশ্রুতির দোকান খুলেছে’

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর “ভোট পেতে প্রধানমন্ত্রী মোদি নাচতেও পারেন”—এই কটাক্ষের পর এবার বিহারে কংগ্রেস এবং আরজেডি-কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছট পুজোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলে বিহারের দুই প্রধান বিরোধী দলকে একযোগে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী।
ছট পুজোর পর এই প্রথম মুজফফরপুরে জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
‘ছট পুজোকে অসম্মান করছে ওরা’
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিহারের বিরোধী দুই দল ছট পুজোকে শ্রদ্ধা করে না এবং বিহারের মানুষের বিশ্বাস ও রীতিনীতিকে অপমান করছে।
💬 প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা: “কংগ্রেস ও আরজেডির এই ছট পুজো আসলে নাটক। এই পুজোর সময় মা ও বোনেদের উপবাস তাদের কাছে নাটক। আপনারা কি ওদের সমর্থন করেন? ভোটের জন্য কেউ ছটি মায়ের অপমান করতে পারে? আমি জানি, বিহার এই অসম্মানকে ভুলে যাবে না।”
তিনি জানান, ছট মহাপর্বকে ইউনেসকোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ তালিকাভুক্ত করার জন্য তাঁর সরকার কাজ করে চলেছে।
‘দুই যুবরাজ মিথ্যা প্রতিশ্রুতির দোকান খুলেছে’
রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবকে লক্ষ্য করে নাম না করে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন:
“দুই যুবরাজ, একজন ভারতের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবারের এবং আরেকজন বিহারের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য।”
“তাঁরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির দোকান খুলেছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “মুজফফরপুরের লিচুর যেমন মিষ্টি স্বাদ, তেমনই এখানকার মানুষের ভঙ্গিও।”
আরজেডি-র জঙ্গল রাজের স্মৃতি
এদিন জনসভা থেকে পূর্ববর্তী আরজেডি সরকারকেও আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি লালুপ্রসাদ যাদবের জমানায় বছরের পর বছর বিহারে ‘জঙ্গল রাজ’ ছিল বলে উল্লেখ করেন।
মোদী অভিযোগ করেন, আরজেডি’র গুন্ডারা তখন শোরুম থেকে গাড়ি লুট করত। মহাগঠবন্ধনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ওরা গরিবদের অধিকার লুট করেছে। যারা জমি লুট করেছে, রেলওয়ে লুট করেছে, তারা কীভাবে বিহারের উন্নয়ন করবে?”
প্রধানমন্ত্রীর ছট পুজোর আবেগ নিয়ে সরাসরি আক্রমণের কৌশলটি আসন্ন নির্বাচনের ঠিক আগে বিহারের ভোটারদের মধ্যে একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।