লালবাজারের জালে আন্তর্জাতিক প্রতারক! FBI-এর অভিযোগের ভিত্তিতে তিলজলা থেকে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত,

তিলজলা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের টার্গেট করে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে এক আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বড়সড় সাফল্য অর্জন করল কলকাতা পুলিশ। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI)-এর অভিযোগের ভিত্তিতে লালবাজারের গোয়েন্দারা এই অভিযান চালান।
ধৃতের নাম মহম্মদ আফতাব, যিনি দক্ষিণ কলকাতার তিলজলার বাসিন্দা।
প্রতারণার পদ্ধতি: রিমোট অ্যাকসেস ও ভুয়ো সফটওয়্যার
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ আফতাব ও তাঁর সহযোগীরা একটি সুসংগঠিত চক্র চালাচ্ছিলেন। তাঁদের প্রতারণার কৌশল ছিল:
যোগাযোগ: ‘টেকনিক্যাল সাপোর্ট সার্ভিস’-এর নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
প্রলোভন: বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের কম্পিউটার ও মোবাইল ডিভাইসে রিমোট অ্যাকসেস নিতেন।
অর্থ আত্মসাৎ: সেই সুযোগে ভুয়ো সফটওয়্যার ইনস্টল করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন।
এভাবে বহু মার্কিন নাগরিক প্রতারণার শিকার হওয়ায় সেখানকার এফবিআই-এ একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে।
কলকাতা পুলিশ ও FBI-এর যৌথ অভিযান
দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত শুরু করার পর এর সঙ্গে কলকাতার যোগসূত্র মেলায় এফবিআই সরাসরি কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর লালবাজারের গোয়েন্দারা তদন্তে নামেন।
গ্রেফতার: কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের ড্রাইভার সেল ও সাইবার সেল এফবিআই-এর যৌথ প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান নির্ধারণ করে এবং বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে আফতাবকে গ্রেফতার করে।
উদ্ধার: তল্লাশিতে ধৃতের কাছ থেকে একাধিক ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যভিত্তিক ডেটা উদ্ধার হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানান, “আমরা এই বিষয়ে তদন্ত করছি। ধৃতের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
লালবাজারের ধারণা, এই চক্রের জাল একাধিক দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তদন্তকারীরা অভিযুক্তকে জেরা করে এই চক্রের বাকিদের হদিশ এবং কোন কোন দেশে এর জাল বিস্তৃত রয়েছে, সেই বিষয়ে তথ্য জানতে চাইছেন।
ধৃত আফতাবকে এদিন আলিপুর পুলিশ কোর্টে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে কলকাতা পুলিশের হেফাজতে পাঠিয়েছে।