‘আমি টাকাপয়সা চাই না, শুধু কয়েকটা দাবি আছে’, মুম্বইয়ে ১৭ শিশুকে পণবন্দি করার শেষ ভিডিও ভাইরাল,

মুম্বইয়ের পাওয়াইয়ে এক স্টুডিও কর্মী কর্তৃক ১৭ জন শিশুকে পণবন্দি করার ঘটনায় বৃহস্পতিবার চরম নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। পুলিশের এনকাউন্টারে অভিযুক্ত রোহিত আর্যের (৩৮) মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পরই সামনে এসেছে রোহিতের শেষ ভিডিও, যেখানে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—তিনি কোনও জঙ্গি নন, তাঁর দাবি ছিল শুধুমাত্র ‘ন্যায়’।

ভিডিওতে রোহিত বলেছেন, “আমি কোনও জঙ্গি নই। টাকাপয়সাও চাই না। চাওয়ার মধ্যে শুধু কয়েকটা দাবি রয়েছে। সেগুলো পূরণের জন্য আমায় এই শিশুদের পণবন্দি করতে হল।”

থ্রিলার সিনেমার মতো অভিযান: ৩৫ মিনিটে উদ্ধার ১৭ শিশু
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনার খবর পেয়ে পাওয়াই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রথমে শান্তিপূর্ণ আলোচনার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু রোহিত রাজি না হওয়ায় শুরু হয় কমান্ডো অভিযান।

অপারেশন: প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে চলে গোটা অভিযান। আটজনের কুইক রিঅ্যাকশন টিম (QRT) বাথরুমের সরু দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে।

এনকাউন্টার: রোহিত আচমকা গুলি চালাতেই কমান্ডো দল পাল্টা গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রোহিত ধরা পড়েন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।

অস্ত্রের রহস্য: পরে জানা যায়, তাঁর হাতে থাকা বন্দুকটি আসলে একটি এয়ারগান ছিল।

আতঙ্কে কাঁপতে থাকা ১৫ বছর বয়সী ১৭ জন কিশোর-কিশোরীকে সফলভাবে নিরাপদে বাইরে আনা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষার পর অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ক্ষোভের কারণ: বকেয়া টাকা না মেলা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩৮ বছর বয়সি রোহিত আর্য পেশায় একসময় স্টুডিওর কর্মী ছিলেন এবং ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি শিশুদের নিয়ে একটি স্কুল প্রোজেক্টের জন্য ‘অডিশন’ নিচ্ছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, একটি স্কুল প্রোজেক্টে কাজ করার পর রোহিতের বকেয়া টাকা মেটানো হয়নি। সেই হতাশা থেকেই এমন বিপজ্জনক পদক্ষেপ বলে অনুমান পুলিশের।

ভিডিওতে রোহিত বলেন, “আমি টাকার জন্য নয়, ন্যায়ের জন্য লড়ছি। আমি সন্ত্রাসবাদী নই।”

পুলিশের ধারণা, রোহিতের আচরণে মানসিক ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত রয়েছে। তার ঘর থেকে রাসায়নিক পদার্থ, লাইটার ও ভিডিও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এক সিনিয়র অফিসারের মতে, শিশুদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া জরুরি ছিল। মুম্বইয়ের এই ঘটনা এখন গোটা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।