সোনার অলংকার হাতানোর চেষ্টা, মুর্শিদাবাদের নওদায় প্রতারণার অভিযোগে যুবক গ্রেফতার, উদ্ধার বিপুল গয়না

মুর্শিদাবাদের নওদা থানার কিশোরী তলা এলাকায় প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর হেফাজত থেকে প্রায় ৩৮০ গ্রাম সোনার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ:

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নওদার কিশোরী তলা এলাকার হাবিব শেখ ওরফে বান্টি নদীয়ার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী, প্রহ্লাদ বিশ্বাস-কে প্রতারণা করে। হাবিব নিজেকে সোনার দোকানের মালিক হিসাবে পরিচয় দেন।

প্রতারণার পদ্ধতি: প্রহ্লাদ বিশ্বাসকে ডেকে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৩৮০ গ্রাম সোনার অলংকার নেওয়া হয়। অলংকার নেওয়ার পর টাকা দিতে চাইলে হাবিব কিছুক্ষণ বসিয়ে রাখেন। টাকা না দিয়ে পরবর্তীতে হাবিব ওই ব্যবসায়ীকে নকল সোনা ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ।

ধরা পড়া: স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রহ্লাদ বিশ্বাস বুঝতে পারেন তাঁকে নকল সোনা দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত নওদা থানার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশের তৎপরতা ও সাফল্য:

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নওদা থানার ওসি কাউসার হোসেন মন্ডল-এর নেতৃত্বে পুলিশ টিম তদন্তে নামে।

বেলডাঙা এসডিপিও ডক্টর উত্তম গড়াই জানান, “নওদা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রহ্লাদ বিশ্বাস নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের পুলিশ টিম তদন্তে নেমে এক যুবককে গ্রেফতার করে। এবং চুরি এবং চিট হয়ে যাওয়া সোনার অলংকার পুলিশ অতি সক্রিয়তায় সাত থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করে।”

পুলিশ ধৃত হাবিব শেখ ওরফে বান্টিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর হেফাজতে থাকা প্রায় ৩৮০ গ্রাম সোনার অলংকার উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ধৃত ওই যুবক এর আগেও এই ধরনের প্রতারণা ও চুরির অভিযোগে বিভিন্ন থানায় গ্রেফতার হয়েছে।

ধৃত যুবককে আজ (শুক্রবার) বহরমপুর জেলা আদালতে তোলা হয় এবং বিচারকের কাছে তাঁকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন চাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আর কে বা কারা জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখছে নওদা থানার পুলিশ।