আর্যের যুদ্ধ জয়, ১০ দিনের ভেন্টিলেটর লড়াই শেষে হাসি ফুটল বাবা-মায়ের মুখে, ফিরল স্বাভাবিক জীবনে

আলিপুরদুয়ারের ৫ বছর বয়সী আর্য সাহা (নাম পরিবর্তিত) জটিল ফুসফুসের রোগকে হারিয়ে নতুন জীবন ফিরে পেল। মুকুন্দপুরের মণিপাল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আর্য সফলভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। শিশুটির চিকিৎসায় প্রধান ভূমিকা নেন ডা. শুভাশিস সাহা (কনসাল্ট্যান্ট – পেডিয়াট্রিক সার্জন) এবং ডা. সায়ন্তন ভৌমিক (অ্যাসোসিয়েট কনসাল্ট্যান্ট – পেডিয়াট্রিক পালমোনোলজি)।
এক সপ্তাহ ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভোগার পর আর্যকে যখন মণিপাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, তখন তার শ্বাসযন্ত্র ছিল অত্যন্ত সংকটজনক। ডান দিকের ফুসফুসে সংক্রমিত তরল বা পুঁজ জমে তা চেপে ধরেছিল, যা ‘এমপাইমা’ নামে পরিচিত। দ্রুত আর্যের জীবন বাঁচাতে ডাক্তাররা আধুনিক ভিডিও-অ্যাসিস্টেড থোরাকোস্কোপিক সার্জারি (VATS) করার সিদ্ধান্ত নেন। সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংক্রমিত পুঁজ বের করা হয়, যার ফলে ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ পায়।
অস্ত্রোপচারের পরও আর্যকে প্রায় ১০ দিন ভেন্টিলেটরে রাখা হয়, কারণ ফুসফুসের পূর্ণ প্রসারণ হচ্ছিল না এবং নিউমোথোরাক্সের মতো জটিলতা দেখা দিয়েছিল। ডা. সৌমেন মেউর এবং ডা. মনিদীপা দত্তের নেতৃত্বে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার টিমের অবিরাম তত্ত্বাবধানে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে আর্য ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। ডা. শুভাশিস সাহা এই ধরনের ক্ষেত্রে সময়মতো সার্জারির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। আর্যর মা বলেন, “এখানকার ডাক্তার ও নার্সদের যত্নে আমার ছেলে আজ একদম সুস্থ, খেলাধুলায় মগ্ন।”