বিহারের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার কেন ৩০ বছর ভোটে দাঁড়ান না? আসল কারণ জানলে অবাক হবেন!

বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ কুমার এক অনন্য ব্যতিক্রম। রাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রায় দুই দশক ধরে প্রশাসনের শীর্ষে রয়েছেন, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে—১৯৮৫ সালের পর থেকে তিনি আর একবারও সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হননি।
এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মূলত বিধান পরিষদ (Legislative Council) অর্থাৎ রাজ্যের আইন পরিষদের সদস্য হিসেবেই মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন হয়ে আসছেন। তাঁর সর্বশেষ সরাসরি নির্বাচনী লড়াই ছিল ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচন।
১৯৭৭, ১৯৮০ এবং ১৯৮৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর, নীতীশ কুমার জাতীয় রাজনীতিতে মনোযোগ দেন এবং ১৯৮৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত টানা ছয়বার লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন।
২০০৫ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই তিনি বিধানসভা নির্বাচনের পথ পুরোপুরি ত্যাগ করেন এবং বিধান পরিষদকে তাঁর রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নেন। ২০১২ সালে পরিষদের শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, “আমি নিজেই পরিষদ সদস্য হতে চেয়েছি, কারণ এটি সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান। এটা কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং আমার পছন্দের সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ভোটে দাঁড়ালে তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব কেবল একটি কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে, যা তিনি চান না। এই ‘পছন্দের সিদ্ধান্ত’ মেনেই তিনি ২০০৫ সালের পর থেকে নিয়মিতভাবে বিধান পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তাঁর বর্তমান পরিষদ সদস্যের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত চলবে।
নভেম্বর ২০০৫-এ প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে নীতীশ কুমারের ক্ষমতা প্রায় নিরবচ্ছিন্ন। ২০১৪-১৫ সালের নয় মাসের সংক্ষিপ্ত বিরতি ছাড়া (যখন তিনি পদত্যাগ করেছিলেন এবং যতীন রাম মাঞ্জি মুখ্যমন্ত্রী হন), মুখ্যমন্ত্রীর আসন তাঁর হাতছাড়া হয়নি। বারবার রাজনৈতিক মিত্র বদলালেও (বিজেপি থেকে আরজেডি এবং ফের বিজেপি), নেতৃত্বের স্থায়িত্বে তিনি অদ্বিতীয়।
২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশ কুমার এবারও ভোটে প্রার্থী হচ্ছেন না। তবে তাঁর নেতৃত্বেই জেডিইউ–বিজেপি জোট রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামছে। তাঁর ব্যতিক্রমী নির্বাচনী কৌশল হয়তো অন্যদের থেকে আলাদা, কিন্তু বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তিনিই এখনও অদ্বিতীয়।