দেশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ‘পরমাণু-ষড়যন্ত্র’ ফাঁস! ISI চর BARC কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল? দিল্লি থেকে পাকড়াও!

দিল্লি পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখা পাকিস্তানের চর সংস্থা আইএসআইয়ের (ISI) হয়ে কাজ করার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে। এই ব্যক্তি দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল পরমাণু গবেষণা সংস্থা ভাবা পরমাণু গবেষণা সংস্থার (BARC) এক কর্মীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল বলে অভিযোগ। পুলিশ সন্দেহ করছে, ৫৯ বছর বয়সী এই চর ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, ইরান ও রাশিয়ার বেশ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলত।

মঙ্গলবার আধিকারিকরা এই গ্রেফতারিকে দেশের পরমাণু-চরবৃত্তি নেটওয়ার্কের অন্তর্গত এ পর্যন্ত সবথেকে বৃহত্তম চক্র বলে মনে করছেন। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগ থাকায় দেশের সব প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা উঠেপড়ে তদন্তে নেমেছে।

ধৃত সন্দেহভাজন চরের নাম আদিল হুসেইনি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সে অতীতে কিছু পরমাণু সংক্রান্ত নকশা এক রুশ বিজ্ঞানীর কাছ থেকে কিনে নিয়ে ইরানের পরমাণু গবেষণা সংস্থাকে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছিল। আইএসআইয়ের হ্যান্ডলারের সঙ্গে তার যোগাযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তাকে দিল্লিতে পাকড়াও করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, হুসেইনি ভাই-বোনদের নিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক চালাত। আদিল হুসেইনির ভাইকে সম্প্রতি মুম্বইতে ধরা হয়েছে। এরা দুজনেই ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজেদের BARC-এর বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচয় দিত। দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানান, এই দুই ভাই মিলে বিদেশের হাতে দেশের বেশ কিছু গোপন তথ্য পাচার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হুসেইনি ছদ্মনাম (আদিল হুসেইনি ওরফে আদিল হুসেন, মহম্মদ আদিল হুসেইনি এবং নাসিমুদ্দিন) ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক চালাত। দুবাইতে বসবাস করলেও সে বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশে ছিল এবং ইরানি চরের কাজ করে যে অর্থ উপার্জন করত, তা দুবাইতে সম্পত্তি কেনায় বিনিয়োগ করত। জামশেদপুরের বাসিন্দা হলেও তার পরিবার দুই দশক আগে উত্তর-পূর্ব দিল্লির সীমাপুরীতে চলে এসেছিল। ধৃতের কাছ থেকে ভুয়ো বিদেশ ভ্রমণের একাধিক নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।