NRC নয়, আসছে SIR! ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের, আপনার নাম সুরক্ষিত তো?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘SIR’ (Special Intensive Revision) লাগু করার তারিখ ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দুই নির্বাচন কমিশনার এসএস সান্ধু ও বিবেক যোশীকে সঙ্গে নিয়ে এই ঘোষণা করেন। প্রথম ধাপে বিহারে SIR সম্পন্ন হওয়ার পর এবার পশ্চিমবঙ্গসহ মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।কোথায় কোথায় SIR?দ্বিতীয় ধাপে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লক্ষদ্বীপ, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবরে SIR লাগু হচ্ছে।ভয় নয়, স্বচ্ছতার প্রক্রিয়া:নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর বহু সাধারণ মানুষের মধ্যে SIR নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, অনেকে এটিকে NRC (National Register of Citizens)-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, SIR নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। এটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির একটি প্রক্রিয়া মাত্র, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত ও অস্বচ্ছ ভোটারদের নাম সংশোধন করে একটি ত্রুটিমুক্ত তালিকা প্রকাশ করা। এর আগে শেষবার ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে SIR হয়েছিল।কবে কী হবে? (গুরুত্বপূর্ণ তারিখ):তারিখকার্যক্রম২৮ অক্টোবর – ৩ নভেম্বর, ২০২৫SIR কর্মীদের প্রশিক্ষণ পর্ব।৪ নভেম্বর – ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫বিএলও (BLO) অফিসারদের ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ।৯ ডিসেম্বর, ২০২৫প্রাথমিক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ।৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ – ৮ জানুয়ারি, ২০২৬খসড়া তালিকা দেখার পর নাম নথিভুক্ত করার আবেদন প্রক্রিয়া।৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ – ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬আবেদনপত্র যাচাই প্রক্রিয়া।৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬চূড়ান্ত স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশ।ভোটার হিসেবে বাছাই ও প্রয়োজনীয় নথি:মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করেছেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় আছে, তাঁরা সকলে বুথ লেভেল অফিসারদের থেকে ‘এনুমারেশন ফর্ম’ পাবেন। এই ফর্মের সঙ্গে সঠিক ১১টি নথির যে কোনও একটি জমা দিলেই তাঁদের নাম খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।যদি নথি না থাকে?কমিশন জানিয়েছে, যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম দেখাতে পারবেন, তাঁদের কোনো নথি দিতে হবে না। তাঁদের নাম সরাসরি নতুন তালিকায় যুক্ত হবে। নতুন করে নাম ওঠানোর ক্ষেত্রে ১১টি নথির মধ্যে যেকোনো একটি এবং ২০০২ সালের তালিকায় বাবা বা মায়ের নাম রয়েছে এমন প্রমাণপত্র দেখাতে পারলেই তালিকায় নাম চলে আসবে।১১টি আবশ্যক নথি (যেকোনো একটি):১. কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি চাকরির কাগজপত্র/পেনশন পরিচয়পত্র।২. ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, এলআইসি, পোস্ট অফিস বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া নথি।৩. নিজের জন্ম শংসাপত্র।৪. পাসপোর্ট।৫. মাধ্যমিক বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র।৬. জমি/বাড়ির দলিল।৭. জাতিগত শংসাপত্র।৮. ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।৯. ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেন্স (NRC) এর নথি।১০. স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার।১১. রাজ্য সরকারের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র (Residential Certificate)।আধার কার্ড কি বৈধ?হ্যাঁ, পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড বৈধ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এটি দেখানো যাবে। তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র আধার কার্ড দেখিয়ে নাগরিকত্বের দাবি করা যাবে না। আধার কার্ডের সঙ্গে উপরোক্ত ১১টি নথির মধ্যে যেকোনো একটি দেখালেই নাম নথিভুক্ত হবে।নাম নথিভুক্তির সহজ শর্তাবলী:আপনাকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বাস করতে হবে।আপনার ভোট দেওয়ার অধিকার বাতিল হওয়া চলবে না।কারা বাদ পড়তে পারেন?যাঁরা ২০০২ সালের তালিকায় নিজেদের বা বাবা-মায়ের নাম দেখাতে ব্যর্থ হবেন এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবেন না, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। এছাড়া, যাঁদের নাম দু’টি এপিক নম্বরে রয়েছে, তাঁদের একটি জায়গা থেকে নাম বাতিল করা হবে। মনে রাখবেন, SIR-এ অংশগ্রহণ না করলে আপনি ২০২৬-এর নতুন তালিকায় নাম তুলতে পারবেন না এবং পরবর্তী নির্বাচনে ভোটও দিতে পারবেন না।