বিপজ্জনক! পাক জঙ্গিনেতা হঠাত্‍ পৌঁছলেন বাংলাদেশে, ভারত সীমান্তের কাছে ঘোরাঘুরি

একদিকে পাকিস্তান, অন্যদিকে বাংলাদেশ—দুই প্রতিবেশী দেশের সাম্প্রতিক গতিবিধি ভারতের নিরাপত্তা মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, সন্ত্রাসবাদীদের প্রশ্রয় দিয়ে কি এবার দিল্লিকে চাপে ফেলার নতুন জোট বাঁধছে এই দুই ‘জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট দেশ’? এই উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তানের কুখ্যাত জঙ্গিনেতা এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসবাদী ইবতিসম ইলাহি জাহির-এর বাংলাদেশ সফর।

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন মারকাজি জমিয়ত আহল ই হাদিত-এর জেনারেল সেক্রেটারি জাহির গত ২৫ অক্টোবর ঢাকায় পৌঁছন। এরপর থেকেই তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সক্রিয়ভাবে ঘুরছেন, বক্তৃতা দিচ্ছেন এবং স্থানীয় কট্টরপন্থী সংগঠনগুলির সঙ্গে গোপনে নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছেন বলে খবর।

ইউনিসের বাংলাদেশে কুখ্যাত জঙ্গির সফর, সীমান্তে উস্কানিমূলক ভাষণ!
জানা গেছে, ইবতিসম ইলাহি জাহির গত দু’দিন ধরে বাংলাদেশের রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ সফর করেছেন। India Today-র হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চাপাইনবাবগঞ্জে দাঁড়িয়ে এই জঙ্গিনেতা প্রকাশ্যেই উস্কানিমূলক ভাষণ দিচ্ছেন।

জাহির তার ভাষণে কট্টরপন্থী মনোভাবের প্রচার করে বলেন, “ইসলামের জন্য নিজেদের কুরবানি দিতে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সন্তানকেও প্রস্তুত রাখতে হবে নিজেদের বলি দিতে। সেকুলার ও লিবারাল শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।”

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি কাশ্মীর প্রসঙ্গ টানেন। এই কুখ্যাত জঙ্গিনেতা দাবি করেন, “কাশ্মীরিরা স্বাধীনতা হীনতায় ভুগছে। ভারতের অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামবিরোধী আইন ও দমননীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া পাকিস্তানের দায়িত্ব। আল্লাহর কৃপায় একদিন কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ হয়ে যাবে। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, সব মুসলিমকে এক হতে হবে।”

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, মহম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাহিরের এটি দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর।

আল-ই হাদিত প্রধানের সঙ্গে গোপন বৈঠক, সীমান্তের জেলাগুলিতে মিশন
কেবল উস্কানি নয়, বাংলাদেশে এই জঙ্গিনেতাকে ‘জামাই আদর’ করা হচ্ছে বলেও খবর। ঢাকার একটি আন্তর্জাতিক স্কুলেও জাহিরকে সাদর অভ্যর্থনা জানানো হয়। একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, জঙ্গি জাহির বাংলাদেশের আল ই হাদিত প্রধান আসাদউল্লাহ আল গালিবের সঙ্গেও দেখা করবেন। এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

India Today-র কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ইবতিসম ইলাহি জাহির ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারিতে যাবেন। এরপর ১ নভেম্বর জয়পুরহাট ও ২ নভেম্বর নগাঁও সফরের কথা রয়েছে। আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর রাজশাহীতে একটি বড় সালাফি কনফারেন্সে যোগ দিয়ে ৮ নভেম্বর তিনি পাকিস্তান ফিরে যাবেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই জেলাগুলিতে তার ঘন ঘন সফর মৌলবাদী প্রচার ও যুবকদের নিয়োগের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জাকির নায়েক-হাফিজ সঈদের ঘনিষ্ঠ জাহির, বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ
ইবতিসম ইলাহি জাহিরের সঙ্গে ভারতের চোখে ‘পলাতক’ ইসলাম ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েকের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র রয়েছে। গত বছর অক্টোবরে পাকিস্তান সফরের সময় জাকির নায়েকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। শুধু তাই নয়, লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গি হাফিজ সঈদ ও তার শ্যালক আবদুল রহমান মক্কি-সহ সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজার সঙ্গেও জাহিরের সম্পর্ক প্রায় ২৪ বছরের পুরনো।

জাকির নায়েকেরও নভেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই সময়ে জাহিরের মতো একজন পাক জঙ্গির সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে সক্রিয় উপস্থিতি ভারতে সন্ত্রাস চালানোর জন্য এক নতুন ‘স্লিপার সেল’ তৈরির দিকে ইঙ্গিত করছে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এটি এক বড় চ্যালেঞ্জ।