১০০ দিনের কাজ, সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল কেন্দ্র, ‘জমিদারদের পরাজয়’ বলে খোঁচা অভিষেকের, পাল্টা জবাব সুকান্তর

১০০ দিনের কাজের (MGNREGA) বকেয়া টাকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরই কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখায় তিন বছর পর রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ শুরু হতে পারবে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়েই এই রায়কে নিজেদের জয় হিসেবে তুলে ধরেছে।
অভিষেকের খোঁচা: ‘জমিদারদের পরাজয়’
তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই রায়কে কেন্দ্র সরকারের জন্য ‘ধাক্কা’ বলে দাবি করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে লেখেন, এটি ‘বহিরাগত বাংলা বিরোধী জমিদারদের জন্য বড় পরাজয়’।
অভিষেক আরও বলেন, “বাংলাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টাকারীদের গালে গণতান্ত্রিক চপেটাঘাত। বিজেপির অহংকারের সীমা ছাড়িয়েছে। জনগণের ভোট ও আদালতে হার হয়েছে চক্রান্তকারীদের।”
সুকান্তর পাল্টা: ‘দুর্নীতিকে মান্যতা দিয়েছে আদালত’
অভিষেকের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস লাফাচ্ছে, কিন্তু আদালত ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগকে মান্যতা দিয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠক করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “পরিষ্কার সেখানে আদালত উল্লেখ করেছে, কেন্দ্রীয় টিম নির্দিষ্ট কিছু অনিয়মের কথা রিপোর্টে তুলে ধরেছে। কিছু অর্থ পুনরুদ্ধারও করা হয়েছে। সে অর্থ রাজ্যে মনরেগা নোডাল অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। এটা আদালতের পর্যবেক্ষণ। অর্থাৎ আদালত মেনে নিয়েছে দুর্নীতি হয়েছে।”
‘ট্যাঁ ফুঁ করার সুযোগ থাকবে না’
সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন, আদালতের তরফ থেকে নোডাল অফিসার বসানো এবং কেন্দ্র চাইলে যে কোনো জায়গায় তদন্ত করতে পারার মতো অনেক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের দাবিকে কলকাতা হাইকোর্ট প্রতিক্ষেত্রে সমর্থন করেছে এবং সেই রায়ই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।
অভিষেক রায় পড়ে দেখেননি মন্তব্য করে সুকান্ত হুঁশিয়ারি দেন, “এই রায়ের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, কেন্দ্র সরকার চাইলেই সেটা করতে পারে। তাতে আর শাসক নেতৃত্বের ট্যাঁ ফুঁ করার জায়গা থাকবে না।” বহিরাগত ইস্যুতে অভিষেককে কটাক্ষ করে সুকান্ত মজুমদার তাঁকে “কনৌজের ব্রাহ্মণ” বলেও অভিহিত করেন।