অসমে বহুবিবাহের দিন শেষ! ২৫ নভেম্বর বিধানসভায় বিল, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলেই ৭ বছর জেল

অসমে বহুবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার গুয়াহাটির এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট জানালেন, আগামী ২৫ নভেম্বর রাজ্য বিধানসভায় এ সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপন করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ না ঘটিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তবে তাঁকে সাত বছর বা তারও বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

সামাজিক সংস্কারে জোর

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই আইন প্রণয়নকে কেবল আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং সামাজিক সংস্কারের বার্তা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “নারীর মর্যাদা, সুরক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। বহুবিবাহ সমাজে বৈষম্য, অন্যায় ও নির্যাতনের জন্ম দেয়। আমরা চাই, এমন অসম গড়ে উঠুক যেখানে নারীকে অবমাননা করা বা তাঁর অধিকার হরণ করা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”

হিমন্ত জানান, গত দুই বছর ধরে সরকার পরিকল্পিতভাবে এই বিষয়ে কাজ করছে এবং রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে বিলটি বিধানসভায় উপস্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে।

বাল্যবিবাহের পর এবার বহুবিবাহ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ হিমন্ত সরকারের “নারী-কেন্দ্রিক সংস্কার” নীতির ধারাবাহিকতা। মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, “২০২২ সাল থেকে আমরা অসমে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত ৫,০০০ পুরুষ এবং ৩,০০০ অভিভাবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট বার্তা দেন, “সরকারের লক্ষ্য একটাই— অসমের প্রতিটি নারী যেন আত্মনির্ভর হয়, শিক্ষিত হয়, এবং নিজের মর্যাদা নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।”

অসম মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান মণিকা শর্মা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এই আইন বহু নারীকে ন্যায়বিচারের পথ দেখাবে। অন্যদিকে, বিরোধী কংগ্রেস শিবির দাবি করেছে, সরকার এই বিলকে নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে সরকারি মহল বলছে, এটি কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, বরং সামাজিক সংস্কারের জন্যই এই পদক্ষেপ।

বিশ্লেষকদের মতে, বহুবিবাহ বিরোধী এই বিল কার্যকর হলে অসমের সামাজিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।