‘জীবন খুব মূল্যবান, নিরাপত্তা সবার আগে’! ছটপুজোয় ভিড় সামলাতে গুজব এড়ানোর কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছটপুজো উপলক্ষে ভক্তদের ঢল নেমেছে কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে। সোমবার সন্ধেবেলা তক্তা ও দহি ঘাটে উপস্থিত থেকে ছটপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উৎসবের শুরুতে তিনি সকলকে শান্ত মনে, নির্বিঘ্নে পুজো করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কোনোরকম গুজবে কান না-দেওয়ার আবেদন করেন।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বার্তা
ছটপুজোয় গঙ্গার ঘাটে হওয়া ভিড়কে দেখে মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তার বিষয়টিতে এদিন বেশি করে জোর দেন। হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে— সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, “তাড়াহুড়ো করবেন না। কেউ একসঙ্গে বেশি সংখ্যায় নদীতে নামবেন না। একদল শেষ করে বেরোলে তবেই পরের দল নামবেন। এটাই শৃঙ্খলা ও নিয়ম। জীবন খুব মূল্যবান। ভক্তি করবেন, কিন্তু নিরাপত্তা সবার আগে।”
তিনি প্রশাসনকেও নির্দেশ দেন, যাতে নিরাপত্তা বলয় কোথাও শিথিল না হয়। পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, স্বাস্থ্য দফতর, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার উপর গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।
গুজব নিয়ে সতর্ক করে মমতা বলেন, “কেউ যদি গুজব ছড়ায়— যেমন কোথাও গন্ডগোল হয়েছে, নদীতে সমস্যা হয়েছে— তাতে কান দেবেন না। গুজবই হুড়োহুড়ি ও দুর্ঘটনার বড় কারণ।”
সম্প্রীতির উৎসব
এদিন তক্তা ঘাট থেকে দহি ঘাট পর্যন্ত হেঁটে যান মুখ্যমন্ত্রী। ছটের পুজো করতে আসা ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সকলকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “বাংলা হল সম্প্রীতির মাটি। এখানে ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ছটপুজো শুধু একটি পুজো নয়— এটি পরিবার, সাম্য এবং সহমর্মিতার উৎসব।”
তিনি জানান, গতবার তাঁর দহি ঘাট সফরের সময় স্থানীয়দের অনুরোধে কলকাতা পুরনিগম বিপরীত দিকের মন্দিরটি সংস্কার করেছে এবং এদিন সেই মন্দিরের উদ্বোধনও হয়।
মমতা বলেন, “আমি বহু বছর ধরেই এই পুজো উপলক্ষে আসি। এই পুজো ভক্তির সঙ্গে শৃঙ্খলার। তাই সবার কাছে অনুরোধ— আপনারা যেমনভাবে ঘর থেকে বেরিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই সুস্থ-সুরক্ষিতভাবে বাড়ি ফিরুন। আপনারা বাড়ি না-ফেরা পর্যন্ত আমিও সজাগ থাকব।”
উল্লেখ্য, এবছর ছটপুজো উপলক্ষে সরকার টানা দু’দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। ঘাটে বাড়তি আলো, সাফাই, শৌচালয়ের ব্যবস্থা, ব্যারিকেড, ডুবুরি দল— সব প্রস্তুত রাখা হয়েছে কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরনিগমের তরফে।