গুজরাতের লেজ লম্বা, জয়ের জন্য ৩০০ রানের লক্ষ্যেই অনড় বাংলা! ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ অধিনায়ক, শাহবাজের ৬ উইকেটে আশা জাগল শিবিরে

রঞ্জি ট্রফিতে গুজরাতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৭০ রান তুলেছে বাংলা, ফলে মোট লিড দাঁড়িয়েছে ২৮২ রানে। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত হলেও, শেষ দিনে জয়ের জন্য ঝাঁপাবে কিনা বাংলা, সেই প্রশ্ন উঠেছে। কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা অবশ্য ‘অতিরিক্ত সতর্ক’ থাকার বার্তা দিয়েছেন।
কোচের কৌশল ‘সতর্কতা’
দিনের শেষে কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “গুজরাতের ব্যাটিংয়ের লেজ লম্বা, তাই এই রান (২৮২) যথেষ্ট নয় এই পিচে। শেষ দিনে আরও ৫ থেকে ৬ ওভার ব্যাট করে ইনিংস ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনশোর বেশি রান তুলে ইনিংস ছাড়ার পরিকল্পনা।” সুদীপ ঘরামিও কোচের কথায় সুর মিলিয়েছেন, জানিয়েছেন আরও অন্তত ৪০ রান দরকার।
যদিও দিনের শেষে ইডেন ছাড়ার সময় মহম্মদ শামি প্রতিপক্ষকে অল-আউট করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন।
বল হাতে শাহবাজের দাপট
এদিন সকালে বাংলার ২৭৯ রানের জবাবে গুজরাত থামে ১৬৭ রানে। গুজরাত ইনিংসে একা কুম্ভ ছিলেন অধিনায়ক হিংরাজিয়া (৮০)। বাংলার বোলিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল শাহবাজ আহমেদ। তিনি ১৯ ওভারে ৩৪ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঁচবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান। শামি শিকার করেন ৩ উইকেট এবং আকাশদীপের ঝুলিতে যায় ১ উইকেট।
সুদীপ ঘরামির হাফ-সেঞ্চুরি, অনুষ্টুপের লড়াই
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলার ব্যাটাররা অবশ্য সাহসী হতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে হাফ-সেঞ্চুরি করা সুদীপ ঘরামি দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫৪ রান করে দলের হয়ে লড়াই করেন। তবে অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হয়েছেন, এদিন ফেরেন মাত্র ২৫ রান করে। অভিষেক পোড়েল (১) এবং সুমন্ত গুপ্ত (১১) ফেরেন দ্রুত।
সুদীপ চট্টোপাধ্যায় দ্বিতীয় দিনে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায়, তাঁর পরিবর্তে কাজি জুনেইদ সইফি দলে এলেও মাত্র ১ রান করে আউট হন। ১২৯ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বাংলার ব্যাটিংকে ভরসা দেন অনুষ্টুপ মজুমদার। দিনের শেষে তিনি ৪৪ রানে অপরাজিত আছেন, সঙ্গে রয়েছেন সূরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (৭)।
শেষ দিনের চ্যালেঞ্জ
২৮২ রানে এগিয়ে থেকেও বাংলার ব্যাটিংয়ে জয়ের জন্য আগ্রাসী মানসিকতার অভাব দেখা গিয়েছে। এর ওপর আলোর অভাবে পরপর তিনদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ হয়েছে। শেষ দিনে ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’র পরোক্ষ প্রভাবে হালকা বৃষ্টি এবং মন্দ আলোর পূর্বাভাস থাকায়, বাংলার জয়ের স্বপ্নে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।