বিধান রায়ের ১৪ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন মমতা! ‘এবার লক্ষ্য জ্যোতি বসুর ২৩ বছর’, কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক ভবিষ্যদ্বাণী

আগামীকাল থেকেই বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই আবহে বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, তখনই এক বিস্ফোরক ভবিষ্যদ্বাণী করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) সোশ্যাল মিডিয়ার এক ভিডিও বার্তায় কুণাল ঘোষ দাবি করেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়ের ১৪ বছর ১৬৬ দিনের মুখ্যমন্ত্রিত্বের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।
কুণাল ঘোষের পরবর্তী লক্ষ্য এখন বাংলার ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। জ্যোতি বসু টানা ২৩ বছর এই পদের দায়িত্ব সামলেছিলেন। কুণাল ঘোষ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই রেকর্ডও ভেঙে দেবেন এবং আরও দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাবেন।
দলীয় আত্মবিশ্বাস ও উন্নয়নের বার্তা
তৃণমূল মুখপাত্রের এই বক্তব্য শুধুমাত্র দলীয় আত্মবিশ্বাসই নয়, আসন্ন নির্বাচনের দিকনির্দেশও বটে। কুণাল বলেন, “মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের পথে। তাঁর সাহস, দৃঢ়তা এবং জনমুখী নীতি বাংলার মানুষকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তাই আমি নিশ্চিত, বাংলার মানুষ আবারও তাঁর হাতেই রাজ্যকে দেখতে চান।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের এই ‘রেকর্ড-ভিত্তিক’ বক্তব্য আসলে প্রতীকী রাজনীতি, যার মাধ্যমে অতীতের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তুলনা করে মমতার নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
কুণালকে তীব্র কটাক্ষ বিজেপির
শাসকদলের এই বক্তব্যকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূল এখন রেকর্ড গোনাতেই ব্যস্ত। কিন্তু রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের দিকে তারা চোখ বন্ধ করে রেখেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেকর্ড ভাঙুন, কিন্তু আগে রাজ্যের মানুষের ভরসা ফিরিয়ে আনুন।”
তবে শাসকদলের নেতারা কুণাল ঘোষের বক্তব্যকে “রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন” হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সংগঠনকে ধরে রেখেছেন, তা প্রমাণ করে রাজ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও অটুট।