এলিয়েনের প্রমাণ মিলতে পারে এই ‘সুপার-আর্থ’-এ? কি বলছে গবেষকরা?

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন ‘সুপার-আর্থ’ গ্রহ আবিষ্কার করেছেন, যা পৃথিবীর বাইরে অন্য কোথাও এলিয়েনের প্রমাণ পাওয়ার এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আবিষ্কৃত এই গ্রহটির নাম ‘জিজে ২৫১ সি’ (GJ ২৫১ c) এবং এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ২০ আলোকবর্ষেরও কম দূরত্বে অবস্থিত।

যেসব গ্রহ আমাদের পৃথিবীর মতো পাথুরে কিন্তু আকারে অনেক বড়, সেগুলোকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুপার-আর্থ’ বলা হয়। ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বিজ্ঞানীরা এ ধরনের গ্রহকে পৃথিবীর বাইরে এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী খোঁজার জন্য তাদের সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

গোল্ডিলকস জোনে অবস্থান, থাকতে পারে তরল জল

গবেষকদের ধারণা, এই নতুন গ্রহটি ‘গোল্ডিলকস জোন’-এ অবস্থান করছে। গোল্ডিলকস জোন হলো তারার চারপাশের এমন একটি অঞ্চল, যেখানে গ্রহটি নিজের সূর্যের খুব কাছেও নয় আবার দূরেও নয়। এর ফলে গ্রহটির পৃষ্ঠে তরল পানি থাকার উপযোগী তাপমাত্রা থাকতে পারে, যা প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য। গবেষকদের মতে, এলিয়েন খোঁজার জন্য এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে রোমাঞ্চকর সম্ভাবনার মধ্যে একটি হতে পারে এই গ্রহ।

বিজ্ঞানীরা এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি করেছেন ‘হ্যাবিটেবল-জোন প্ল্যানেট ফাইন্ডার’ নামের বিশেষ এক যন্ত্র ব্যবহার করে। এই যন্ত্র এমন গ্রহকে খুঁজে বের করতে সক্ষম, যেটি ‘প্রাণ থাকার অবস্থার জন্য উপযোগী দূরত্বে’ রয়েছে।

২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে আবিষ্কার

বিজ্ঞানীরা মূলত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই আবিষ্কারটি করেছেন। বিভিন্ন টেলিস্কোপ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে গ্রহটির ‘দোলন’ (Wobble)-এর বিষয়টি মূল আগ্রহের বিষয় ছিল। কক্ষপথে থাকা কোনো গ্রহের আকর্ষণশক্তির কারণে তার তারার মধ্যে এই হালকা আন্দোলন বা নড়াচড়ার সৃষ্টি হয়।

প্রথমে বিজ্ঞানীরা ‘জেজি ২৫১ বি’ নামের গ্রহ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে এসব তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। তবে বিশদ পরীক্ষার পর জানা যায় যে সেখানে আরও একটি বড় আকারের গ্রহও রয়েছে।

‘পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক সুভারথ মহাদেবন বলেছেন, “আমরা এখনও জেজে ২৫১ সি-তে বায়ুমণ্ডল বা প্রাণের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারিনি। তবে এ গ্রহটি ভবিষ্যতে গবেষণার জন্য আশা জাগানিয়া লক্ষ্য হতে পারে।”

যদিও গবেষকরা সরাসরি গ্রহটিকে দেখতে পাননি, তবে তাঁরা অনুমান করছেন যে ভবিষ্যতের অত্যাধুনিক টেলিস্কোপগুলো এমন সক্ষমতা দেবে, যাতে তারা গ্রহটি সরাসরি দেখতে পারেন। এই গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল দ্য ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল’-এ ‘ডিসকভারি অফ এ নিয়ারবাই হ্যাবিটেবল জোন সুপার-আর্থ ক্যান্ডিডেট অ্যামেনেবল টু ডাইরেক্ট ইমেজিং’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।

সংবাদসূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল