প্রতিমা ভাঙা ও প্রিজন ভ্যানে তোলা নিয়ে তোলপাড় কাকদ্বীপ! বিজেপি-তৃণমূলের তীব্র তরজা, পুলিশ কী জানাল?

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপের সূর্যনগর এলাকায় কালীপুজোর সময় প্রতিমা ভাঙা এবং সেই ভাঙা প্রতিমাকে পুলিশি প্রিজন ভ্যানে তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে।

ভাঙা প্রতিমা, অবরোধ ও পুলিশের পদক্ষেপ
বুধবার ভোরে এলাকাবাসীরা দেখেন, সূর্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মন্দিরের কাছে প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মন্দিরের তালা ভেঙে আরও একটি মূর্তিও ভাঙা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বিক্ষোভ: ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা ডায়মন্ড হারবার ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপঙ্কর জানা অভিযোগ করেন, পুলিশ তথ্য পাওয়ার পরেও ঘটনাস্থলে যায়নি, তাই তারা মূর্তি নিয়ে এসে অবরোধ করেন। তাঁর দাবি, পুলিশ উল্টে লাঠিচার্জ করে এবং ১৮ বছরের এক যুবককে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

পুলিশের দাবি: সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তি মদ্যপান করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

রাজনৈতিক তরজা: ‘দোষী বিজেপি যুবমোর্চার’
ভাঙা মূর্তিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

বিজেপির তোপ: বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উভয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তৃণমূলের পাল্টা: তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ এই ঘটনায় বিজেপি নেতাদের ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রং চড়ানোর’ অভিযোগ করেছেন। কুণাল ঘোষের দাবি, মূর্তি ভাঙায় জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তি বিজেপি যুবমোর্চার সঙ্গে যুক্ত এবং সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই কাণ্ড করেছে। তিনি বলেন, “সে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। বিজেপি এই ঘটনাগুলো নিয়ে রাজনীতি ও আন্দোলন করছে।”

রাজ্য পুলিশের বিবৃতি
এদিকে, রাজ্য পুলিশ নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, কাকদ্বীপের ঘটনা নিয়ে ভুল তথ্যপ্রচার করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি:

ক্ষতিগ্রস্ত বিগ্রহটি নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করায় অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়েছিল।

অবরোধ তুলতে গেলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে।

পরে ভাঙা প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।