চীন-পাকিস্তান সীমান্তে ‘ভৈরব লাইট কমান্ডো’! ইন্টিগ্রেটেড এই বিশেষ বাহিনীতে ২৫০ জন কমান্ডো, মোতায়েন হচ্ছে পাঁচটি ব্যাটালিয়ন

দেশের দুই প্রধান শত্রু পাকিস্তান ও চীনের সীমান্তে দ্রুত এবং উচ্চ-প্রভাবশালী সামরিক পদক্ষেপের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী এবার মোতায়েন করতে চলেছে ‘ভৈরব লাইট কমান্ডো’ ব্যাটালিয়ন। সেনার ইনফ্যান্ট্রি উইং-এর ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল অজয় কুমার জানিয়েছেন, এই বিশেষ ইউনিটগুলি প্রচলিত পদাতিক সেনা এবং স্পেশাল ফোর্সের মধ্যেকার ক্ষমতার ব্যবধান দূর করবে।

শৌর্য দিবস উদযাপনের আগে জেনারেল অজয় কুমার বলেন, ইতিমধ্যেই পাঁচটি ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’ পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। আরও চারটি ব্যাটালিয়ন গঠনের কাজ চলছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাকি ১৬টি ব্যাটালিয়ন প্রস্তুত হয়ে যাবে।

‘ভৈরব’ ব্যাটালিয়নের বৈশিষ্ট্য:

উদ্দেশ্য: চীন ও পাকিস্তানের সীমান্তে দ্রুত এবং উচ্চ-প্রভাবশালী অভিযান চালানো।

কমান্ডো সংখ্যা: প্রতিটি ‘ভৈরব’ ইউনিটে ২৫০ জন করে কমান্ডো থাকবে।

গঠন: এটি একটি ইন্টিগ্রেটেড ফর্মেশন, যেখানে এয়ার ডিফেন্স, আর্টিলারি এবং সিগন্যালের মতো বিভিন্ন বিভাগ থেকে সৈন্যরা আসেন (এয়ার ডিফেন্স থেকে ৫ জন, আর্টিলারি থেকে ৪ জন এবং সিগন্যাল থেকে ২ জন)।

মোতায়েন: নর্দার্ন কমান্ডের অধীনে লেহ (১৪ কোর), শ্রীনগর (১৫ কোর) এবং নাগরোটাতে (১৬ কোর) তিনটি ইউনিট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাকি দুটি ব্যাটালিয়ন পশ্চিম ও পূর্ব সীমান্তে মরুভূমি এবং পাহাড়ি এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

কার্যক্রম: সীমান্ত পারের অভিযান, শত্রুর সরবরাহ লাইন ব্যাহত করা, নজরদারি এবং ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের জন্য এই ইউনিটগুলি প্রস্তুত।

ড্রোন অভিযানের জন্য ‘ASHNI প্লাটুন’: লেফটেন্যান্ট জেনারেল অজয় কুমার আরও ঘোষণা করেছেন যে ভারতীয় সেনা ড্রোন যুদ্ধের জন্য ৩৮০টি বিশেষ ‘ASHNI প্লাটুন’ তৈরি করেছে। এই বিশেষ প্লাটুনগুলি গোয়েন্দা, নজরদারি, নিরীক্ষণ (ISR) এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের প্ল্যাটফর্ম-সহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক ড্রোন দিয়ে সজ্জিত। গত মাসে অরুণাচল প্রদেশে অনুষ্ঠিত ‘যুদ্ধ কৌশল ৩.০’ অনুশীলনে প্রথমবার এই প্লাটুনগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল।

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ‘ঘাতক প্লাটুন’ (পদাতিক ইউনিটের বিশেষ আক্রমণকারী দল)-এর প্রায় ২০ জন কমান্ডো বাহিনীতে থাকবে। তবে ২৫০ জন কমান্ডো সমেত ‘ভৈরব লাইট কমান্ডো’ ইউনিটগুলি বিশেষ ভূমিকার জন্য ব্যবহৃত হবে, যা যুদ্ধের রণনীতিতে একটি নির্ণায়ক সুবিধা দেবে।