৩০০ কেজি চালের অন্নকূট উৎসব গিরিশ পার্কে! ভোগ পরিবেশনে রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী-নেতারা; তৃণমূলের চাঁদের হাট

উত্তর কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় বারোয়ারি কালীপুজো, গিরিশ পার্ক ফাইভ স্টার স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে বুধবার পালিত হলো অন্নকূট উৎসব। প্রতিমা বিসর্জনের পর এই অন্নকূট মহোৎসব ক্লাবের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এই বিশেষ উৎসবের জন্য প্রায় ৩০০ কেজিরও বেশি চালের ভাত রান্না করা হয়েছিল। এই বিপুল পরিমাণ অন্ন ভোগ কমবেশি ৫ হাজার মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী-নেতাদের উপস্থিতি: এই উৎসবে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের বহু হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ ও কেএমসি-র চেয়ারপার্সন মালা রায়, মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং অরূপ বিশ্বাস-সহ তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্বকে দেখা যায়।
জানা গিয়েছে, মায়ের আরতির সময় উপস্থিত হন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এমনকি, অন্নকূট পুজোর সময় তিনি মা কালীকে হাতে বাতাস (হাওয়া) করছিলেন। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক স্মিতা বক্সি ও সঞ্জয় বক্সি।
ভোগের রকমারি: অন্নকূট পুজো উপলক্ষে একাধিক থালা ভর্তি করে মা কালীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগের তালিকায় ছিল ভাত, দুই রকমের নিরামিষ সবজি, পাঁচ রকমের ভাজা, ডাল, পোলাও, চাটনি এবং রকমারি মিষ্টি।
ঐতিহ্য রক্ষা: ক্লাবের কর্মকর্তা সৌম্য বক্সি জানান, “দীর্ঘদিন ধরেই এই কালীপুজো হয়ে আসছে। কালীপুজোর পরে যেমন তিথি পড়ে, সেই মতো এই অন্নকূট মহোৎসবের আয়োজন করা হয়। শুধু কালীপুজো করলে মন ভরে না, তাই এই মহোৎসব।” মায়ের আরতি এবং অন্ন ভোগ নিবেদনের পর সকলে এই প্রসাদ গ্রহণ করেন। ভোগ প্রথমে বসিয়ে খাওয়ানো হয় এবং আশপাশের প্রতিটি বাড়িতে বিতরণ করা হয়। ক্লাবের সদস্যরা পল্লির প্রতিটি বাড়িতে নিজে হাতে সেই ভোগ পৌঁছে দেন, যাতে প্রত্যেকে বাড়িতে বসেই মায়ের প্রসাদ পেতে পারেন।
প্রসঙ্গত, এই ক্লাব প্রতিবারই তাদের মণ্ডপ সজ্জার জন্য নজর কাড়ে। এবার শ্যামা সঙ্গীত রচয়িতা ও শিল্পীদের নিয়ে মণ্ডপ তৈরি করে অভিনবত্বের নজির রেখেছেন উদ্যোক্তারা।