ভাইফোঁটায় নলেন গুড়ের চমক, নাকি চকোলেট-ক্যাডবেরি ফিউশন? দাম বাড়লেও হুগলির মিষ্টির দোকানে লম্বা লাইন!

ভাইফোঁটা মানেই ভাই বা দাদার কপালে ফোঁটা দেওয়ার পর থালাভর্তি রকমারি মিষ্টি। এই বিশেষ দিনে ভাই-বোনদের মন জয় করতে তাই অভিনবত্বের খোঁজে নেমেছেন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। হুগলির নামী-দামি দোকানগুলি এবার ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক দারুণ মিশেল নিয়ে হাজির হয়েছে বাজারে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে মিষ্টির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, প্রিয় ভাই বা দাদার জন্য সেরা মিষ্টিটি নিতে কার্পণ্য করছেন না দিদি-বোনেরা।

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ফিউশন: ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিগুলির মধ্যে জলভরা সন্দেশ, মতিচুর, খাজা, প্যাঁড়া এবং লবঙ্গলতিকার চাহিদা যেমন তুঙ্গে, তেমনই আধুনিক স্বাদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ক্যাডবেরি ও চকোলেট স্বাদের নানা ফিউশন মিষ্টি। দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই মিষ্টিগুলির স্বাদেও মুগ্ধ ক্রেতারা। মিষ্টির পাশাপাশি নোনতা-নিমকির পসরাও সাজিয়েছেন বিক্রেতারা।

ক্রেতা ও বিক্রেতার বক্তব্য: চন্দননগরের এক মিষ্টান্ন বিক্রেতা ধনঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, তাঁরা ভাইফোঁটার জন্য প্রায় ৩০০ রকমের রকমারি মিষ্টি তৈরি করেছেন। কারিগরদের দম ফেলার সময় নেই, দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ছে। এই বছর তাঁদের তৈরি ‘গোবিন্দায়ো নমঃ’ এবং ‘চকোলেট হরি হরি’ মিষ্টি ‘হট কেকের’ মতো বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি, নলেন গুড়ের মিষ্টি এবং স্পেশাল কৈরাভোগ, হানিডুর মতো মিষ্টিও রয়েছে। সুগারের রোগীদের জন্য তৈরি হয়েছে ‘সুগার ফ্রি’ মিষ্টি। এই বিশেষ মিষ্টিগুলির দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা থেকে শুরু হচ্ছে, যা সাধ্যের মধ্যেই বলে দাবি তাঁর।

অন্যদিকে, সূর্য মোদক মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠানের শৈবাল মোদক বলেন, “ট্র্যাডিশনালের মধ্যে জলভরা, মতিচুর, পাতুরি ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির উপরে আমরা জোর দিয়েছি। ভাইফোঁটায় জলভরা সন্দেশ সবচেয়ে বেশি চলে।” তাঁদের মিষ্টির দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা থেকে শুরু হচ্ছে।

শহর ও গ্রামের দামের ফারাক: বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শহর এবং গ্রামের মিষ্টির চাহিদার মতো দামেরও তারতম্য রয়েছে। শহরে ভালো মানের মিষ্টির দাম শুরু হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা থেকে, যেখানে গ্রামের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা মূলত ১০ টাকার মধ্যেই দাম রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। চন্দননগর ছাড়াও ব্যান্ডেল, রিষড়া এবং চুঁচুড়ার মিষ্টির দোকানগুলিতেও ভাইফোঁটার এই বিশেষ পসরা নিয়ে জমজমাট বিকিকিনি চলছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ভাইফোঁটায় মিষ্টির বাজার প্রতি বছরই একটি নির্দিষ্ট গতিতে চলে।