মধ্যমগ্রামে বাসের রেষারেষির বলি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী! যশোর রোডে ধুন্ধুমার, ঘাতক চালক পলাতক

দীপাবলির উৎসবের দিনেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো মধ্যমগ্রামের যশোর রোড। দুটি বেসরকারি বাসের বেপরোয়া রেষারেষির মাঝে পড়ে বেঘোরে প্রাণ হারাল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। মৃত কিশোরীর নাম অন্তরা বোস (১৭)। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা একাধিক বাসে ভাঙচুর চালালে বুধবার পরিস্থিতি রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে মধ্যমগ্রামের বাড়ি থেকে স্কুটি নিয়ে বারাসতের দিকে যাচ্ছিলেন অন্তরা বোস। স্কুটি চালাচ্ছিলেন তাঁর বন্ধু, বছর ১৮-এর জানদীপ দে। পিছনে বসেছিলেন অন্তরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, যশোর রোড ধরে যাওয়ার সময় মধ্যমগ্রামের মেঘদূত বাস স্টপেজের কাছে পিছন থেকে একটি বেসরকারি বাস তাঁদের স্কুটিতে ধাক্কা মারে। স্কুটি থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান অন্তরা ও তাঁর বন্ধু। সেই সময় পিছনে দ্রুত গতিতে থাকা এল-২৩৮ রুটের আরেকটি বেসরকারি বাস কিশোরী অন্তরার শরীরের উপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

গুরুতর জখম অবস্থায় অন্তরার বন্ধু জানদীপ দে-কে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, “এল-২৩৮-এর দুটি বেসরকারি বাসের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরেই রেষারেষি চলছিল। একটি বাস আরেকটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়েই ঘটে এই দুর্ঘটনা।”

উত্তপ্ত পরিস্থিতি, বাসে ভাঙচুর

এই দুর্ঘটনার খবর ছড়াতেই মধ্যমগ্রামের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। মৃতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে একের পর এক এল-২৩৮ রুটের বাসে ভাঙচুর চালাতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারাসতের এসডিপিও বিদ‍্যাগর অজিঙ্কা আনন্তের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখায়। শেষে ঘাতক বাসের চালক ও খালাসিকে দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

নিহতের বাবা অলোক বোস বলেন, “এল-২৩৮ বাসের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্যই আমার মেয়েকে আজ মরতে হলো। কেন বারবার যশোর রোডে এই ভাবে দুর্ঘটনা ঘটছে তা দেখা উচিত পুলিশ প্রশাসনের।”

পুলিশের পদক্ষেপ

ইতিমধ্যে পুলিশ ঘাতক বাসটিকে আটক করেছে। যদিও বাসের চালক ও খালাসি পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। বারাসতের এসডিপিও জানিয়েছেন, “কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল তা জানা যাবে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই। ইতিমধ্যে ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে। চালক ও খালাসিকেও চিহ্নিত করা গিয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, যারা আইন হাতে তুলে নিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে। জানা গিয়েছে, ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ মৃতের পরিবারের কয়েক জনকে আটকও করেছে।