বিয়ের কয়েকমাস আগেই চরম সিদ্ধান্ত! চন্দননগরে গয়নার দোকানের সেলস গার্লের গঙ্গায় ঝাঁপ, কর্মস্থলে হয়রানির অভিযোগ!

বিয়ের কয়েকমাস আগেই চরম হতাশায় গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন গয়নার দোকানের এক সেলস গার্ল। পরিবারের অভিযোগ, কর্মস্থলে মালিকের সঙ্গে গোলমাল এবং লাগাতার হয়রানির কারণেই তিনি এই মর্মান্তিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। তরুণীর খোঁজে গঙ্গায় ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা।
কে এই তরুণী?
তরুণীর নাম মানালী ঘোষ (২৫)। তাঁর বাড়ি চন্দননগরের বৌবাজার বটতলায়। তিনি চন্দননগর বাগবাজারে জিটি রোডের পাশের আরতি জুয়েলার্স-এ সেলস গার্লের কাজ করতেন এবং চার বছর ধরে সেখানেই কর্মরত ছিলেন। তিন বছর আগে সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তাঁর রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়েছিল এবং কয়েক মাসের মধ্যেই মাঘ মাসে বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
সুইসাইড নোট এবং অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে খবর, মানালী গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার আগে একটি সুইসাইড নোট লিখে যান। সেই নোটে জুয়েলারি দোকানের চাকরি খোয়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃতার বাবা মানস ঘোষ (পেশায় টোটো চালক) অভিযোগ করেছেন,
“পড়াশোনা করে জুয়েলারি দোকানে কাজে যোগ দিয়েছিল মেয়ে। অনেকদিন ধরে মানসিক অত্যাচার করছিল মালিক। আমার মেয়েকে এমন কী বলল, যার জন্য এত বড় সিদ্ধান্ত নিল সে।”
মানালীর ভাসুর শুভজিৎ রায় জানান, আজ সকালে দোকানে ঝামেলা হয়। এরপর মানালী তাঁর স্বামীকে ফোন করে বলেছিলেন, “এই দোকানের কাজটা আর নেই।” তাঁর স্বামী স্ট্যান্ডে পৌঁছনোর আগেই মানালী ঝাঁপ দেন।
অন্যদিকে, দোকানের মালিকের স্ত্রীর দাবি, মানালী অসুস্থ ছিলেন এবং তিনি মানসিক চাপ নিতে পারছিলেন না, তাই নিজেই কাজটি ছেড়ে দিয়েছিলেন।
পুলিশি তদন্ত
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চন্দননগর থানার পুলিশ। চন্দননগর পুলিশ কমিশানারেটের ডিসিপি অলকনন্দা ভায়াল জানিয়েছেন, “ডুবুরি নামিয়ে তরুণীর খোঁজ চলছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবার ও দোকান মালিক সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
মানালীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর দোকানের মালিকের স্ত্রী মমতা দাস-সহ অন্যান্য কর্মচারীদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কী কারণে একটি রেজিস্ট্রি হওয়া মেয়ে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।