দিওয়ালি ঘিরে উত্তপ্ত কানাডা: আতশবাজি বিতর্কের পর এবার বর্ণবিদ্বেষী ইমেল! ইঞ্জিনিয়ার মার্টিন কেন বললেন ‘ননসেন্স’ বন্ধ করতে?

কানাডায় বসবাসকারী একজন পেশাদার প্রকৌশলী মার্টি বেল্যাঞ্জার (Marty Belanger), Netflix-এর কাছ থেকে দীপাবলির শুভেচ্ছা বার্তা পেয়ে একটি আপত্তিকর ইমেল করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আলবার্টার এই ব্যক্তি কেবল নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেই থামেননি, জবাবে তিনি ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।
ইমেলে কী লিখেছিলেন মার্টিন?
কানাডায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় অভিবাসী থাকার কারণে সেখানে দীপাবলি একটি বড় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও গ্রেটার টরন্টো এলাকায় দীপাবলির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।
কিন্তু মার্টি বেল্যাঞ্জার এই শুভেচ্ছা বার্তায় সন্তুষ্ট ছিলেন না। ব্যক্তিগত তথ্য থাকা সত্ত্বেও Netflix কেন তাঁকে এমন ইমেল পাঠাল, সেই সমালোচনা করে তিনি লেখেন:
“আমি আলবার্টার একজন মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ পুরুষ, যিনি যুদ্ধের সিনেমা, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী এবং রিয়েল ক্রাইম ডকুমেন্টারি পছন্দ করেন। আমাকে এই ননসেন্স পাঠানো বন্ধ করুন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “তৃতীয় বিশ্বের অভিবাসীরা আমার দেশে প্রবেশ করে উৎসব করলে আমার কিছু যায় আসে না।”
বিতর্কের ঝড় ও ট্রোলিং
বেল্যাঞ্জারের এই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ তাঁকে সমর্থন করে বলেছেন যে, তাঁরা কখনও ক্রিসমাসের এমন ইমেল পাননি। তবে বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই এত সামান্য বিষয়ে তাঁর মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার জন্য উপহাস করেছেন এবং তাঁর এই আচরণকে ‘বিদ্বেষমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকেই তাঁকে ‘গৃহহীন’ এবং ‘আবর্জনা’ বলে ট্রোল করেছেন।
দীপাবলি ঘিরে কানাডায় অন্যান্য বিতর্ক
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে এলো, যখন কানাডায় দীপাবলিকে ঘিরে আরও কিছু আলোচনা চলছে। কিছুদিন আগে একটি কানাডীয় দোকানে দীপাবলির থিমের চকোলেট বিক্রির ছবি নিয়ে অনলাইনে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এছাড়া, মিসিসাগা সিটি কাউন্সিল দীপাবলির সময় আতশবাজি নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে শব্দ, আঘাত এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ছুটির দিনগুলোতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আতশবাজি ফাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে (তবে নববর্ষের আগের রাতে রাত ১১টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত অনুমতি থাকবে)। পাশাপাশি, রোমান ক্যান্ডেলের মতো কিছু আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিক্রির সময়ও কমানো হয়েছে।
এই বিতর্কগুলো কানাডার সমাজে বহুসংস্কৃতি ও অভিবাসন নিয়ে চলমান উত্তেজনারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।