‘ওটা একটা জঘন্য সিনেমা ছিল!’: প্রথম ছবির ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খুললেন ইব্রাহিম আলি খান, ট্রোলিং-এর প্রভাবের কথা স্বীকার!

সইফ আলি খান এবং অমৃতা সিং-এর পুত্র ইব্রাহিম আলি খান অভিনেত্রী খুশি কাপুরের সঙ্গে ‘নাদানিয়াঁ’ (Nadaaniyan) ছবির মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন। কিন্তু পরিচালক শাউনা গৌতমের এই ছবিটি মুক্তির পর থেকেই মুখ থুবড়ে পড়ে এবং নেটফ্লিক্সে আসার পর চরম ট্রোলিং ও সমালোচনার মুখে পড়ে।
সম্প্রতি এস্কোয়ার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইব্রাহিম আলি খান তাঁর প্রথম ছবিকে ‘সত্যিই একটি খারাপ ছবি’ বলে স্বীকার করে নিয়েছেন এবং লাগাতার ট্রোলিং কীভাবে তাঁকে প্রভাবিত করেছে, সেই বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন।
‘নাদানিয়াঁ’ ছিল চরম ব্যর্থতা
নিজের প্রথম ছবির ব্যর্থতা নিয়ে ইব্রাহিম আলি খান বলেন, “কিছুদিন আগেও সকলে আমার লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছিল, আর ‘নাদানিয়াঁ’-র পর সেই উন্মাদনা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। তারা আমাকে নন-স্টপ ট্রোল করেছে। ‘ও এটা করতে পারবে না’। এটা একটা ম্যাসিভ লো (Massive Low)… এবং আমি সবসময় এই কারণে খারাপ অনুভব করি।”
এরপর তিনি স্পষ্ট স্বীকার করে নেন যে ছবিটি খারাপ ছিল। ইব্রাহিম বলেন, “আমি রেকর্ড করে বলছি, ওটা সত্যি একটা খারাপ ছবি ছিল।”
ট্রোলিং নিয়ে ক্ষোভ: ‘ব্লকবাস্টার দিলে একই উন্মাদনা চাই’
ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ট্রোলিং তাঁর উপর কতটা প্রভাব ফেলেছিল। তিনি বলেন, “এটা সত্যিই খুব খারাপ ছিল। এটা যেন একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল, ‘ওহ, চলো এই ছবিটা নিয়ে ট্রোল করি।’ এমনও অনেকে ছিল যারা অন্যদের ট্রোল করতে শুনে সেই স্রোতে গা ভাসিয়েছিল। এটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়।”
তবে এখানেই না থেমে ইব্রাহিম আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি তিনি একটি ব্লকবাস্টার হিট দিতে পারেন, তবে তিনি দর্শকদের কাছ থেকে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া চান। তিনি আশা করেন, “যদি আমি ভবিষ্যতে একটি ব্লকবাস্টার দিতে পারি, আমি একই ধরনের প্রতিক্রিয়া চাই। তাদের তখন যেন আমার জন্য পাগল হয়ে যায়।”
‘তাড়াতাড়ি করে ফেলেছিলাম’, স্বীকারোক্তি ইব্রাহিমের
ইব্রাহিম মনে করেন, তিনি তাঁর সুযোগটিকে হালকাভাবে না নিলেও, ইন্ডাস্ট্রিতে আসার সময় তাঁর মনোভাব ছিল ‘হয়ে যাবে (Ho jaayega)’। যদিও তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তবুও মনে করছেন প্রথম প্রজেক্টে তিনি হয়তো কিছুটা তাড়াহুড়ো করে ফেলেছিলেন।
তিনি বলেন, “অবশ্যই, আমি কঠোর পরিশ্রম করছিলাম—যেমন এখনও স্পিচ ইসু নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু একদিক দিয়ে আমার মনে হয়, আমি সম্ভবত খুব তাড়াতাড়ি ওই ছবিতে ঢুকে পড়েছিলাম। যখন আমি ছবির শুটিং শুরু করি, তখন আমার বয়স ছিল ২১ বছর—অন্যরা ২৬, ২৭, ২৮ বছর বয়সে শুরু করছে—আর এখন আমার মনে হয়, তখন যা ঘটতে যাচ্ছিল, তার স্কেল নিয়ে আমার আরও বেশি সচেতন হওয়া উচিত ছিল।”
উল্লেখ্য, ‘নাদানিয়াঁ’ ছিল পরিচালক শাউনা গৌতমের প্রথম ছবি। এরপর ইব্রাহিমের পরবর্তী প্রজেক্ট, ‘সরজমিন’ (Sarzameen), ছিল বোমান ইরানির পুত্র কায়োজ ইরানির পরিচালনায় অভিষেক। বর্তমানে ইব্রাহিম পরিচালক কুনাল দেশমুখের স্পোর্টস ড্রামা ছবি ‘দিলর’ (Diler)-এর মাধ্যমে থিয়েটারে আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।