ডিএলএস-এর ‘রহস্য’ ফাঁস! ভারত ১৩৬ রান করলেও কেন অজিদের লক্ষ্য ১৩১? সিরিজ হার বাঁচাতে চাপে গিলরা

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হারল ভারত। মিচেল মার্শের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া ডার্কওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (DLS) পদ্ধতিতে ভারতকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে একটি বড় প্রশ্ন দানা বেঁধেছে—বৃষ্টির কারণে খেলাটি ২৬ ওভারের হলেও, ভারত ৯ উইকেটে ১৩৬ রান করার পরও অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্যমাত্রা কেন ১৩১ রান ধার্য করা হলো? কেন ৫ রান কমে গেল টার্গেট?

ডিএলএস (DLS) পদ্ধতির মারপ্যাঁচ
বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ওভার সংখ্যা কমলে বা খেলা বাধাগ্রস্ত হলে ফলাফল নির্ধারণের জন্য ডার্কওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (Duckworth-Lewis-Stern – DLS) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এটি একটি বিশেষ গাণিতিক পদ্ধতি, যা ওভার এবং উইকেট—এই দুটি ‘রিসোর্স’ বা সম্পদের ভিত্তিতে পরিবর্তিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।

আসলে, পারথের অপটাস স্টেডিয়ামে ভারতীয় ব্যাটিং ইনিংস চলাকালীন কয়েক দফায় বৃষ্টি নামে। এর ফলে বারবার ওভার সংখ্যা কমানো হয়। প্রথমে খেলা ৩৫ ওভারের হলেও, বারবার বিরতির পর তা ২৬ ওভারে নামিয়ে আনা হয়।

এই পরিস্থিতিতেই DLS পদ্ধতি কার্যকর হয়।

১. কম ওভার: যখন ওভার কমিয়ে দেওয়া হয়, তখন দ্বিতীয় ব্যাটিং করা দল, অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া, প্রথম দলের মতো একই সংখ্যক ওভার খেলার সুযোগ হারায়। ২. উইকেট পতন: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারত ২৬ ওভারের মধ্যে ৯টি উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল।

DLS পদ্ধতিতে যখন প্রথম ব্যাটিং করা দল তাদের সম্পূর্ণ ওভার খেলার সুযোগ হারায় এবং অনেক বেশি উইকেট (যেমন, ভারতের ক্ষেত্রে ৯টি) হারিয়ে ফেলে, তখন ধরে নেওয়া হয় যে, তাদের হাতে আরও উইকেট থাকলে তারা শেষের দিকের ওভারগুলোতে আরও দ্রুত রান তুলতে পারতো। কিন্তু তারা উইকেট হারিয়ে ফেলার কারণে সেই সুযোগ নষ্ট করেছে।

এই ক্ষেত্রে, DLS পদ্ধতি ভারতের ১৩৬ রান-কে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ন্যায্য টার্গেটে রূপান্তর করার সময় উইকেট হারানোর বিষয়টি বিবেচনা করে। এর ফলে, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রান (এখানে ৫ রান) ভারতীয় ইনিংসের মোট রান থেকে বাদ দেওয়া হয়, যাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করা অস্ট্রেলিয়া একটি ন্যায্য লক্ষ্য পায়।

তাই, ডিএলএস পদ্ধতির গণনা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার জন্য ১৩১ রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়।

ম্যাচে যা ঘটল
পারথের বাউন্সি পিচে মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের বোলিং-এ ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ভারত। যদিও কেএল রাহুল (৩৮) এবং অক্ষর প্যাটেল (৩১) কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন, কিন্তু দলের ১৩৬ রানের পুঁজি লড়াই করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ট্র্যাভিস হেডের উইকেট দ্রুত হারালেও, মার্শ (অপরাজিত ৪৬), ম্যাট শর্ট ও জশ ফিলিপের (৩৭) সহায়তায় ২১.১ ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেন।

সিরিজে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায়, সিরিজ জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ভারতকে এখন অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী ম্যাচ জিততেই হবে।