রেকর্ড ভাঙা আলো! অযোধ্যার দীপাবলি বিশ্বকে তাক লাগাল, একসঙ্গে জ্বলল ২৬ লক্ষের বেশি প্রদীপ; গিনেস বুকে জোড়া রেকর্ড!

ঐতিহ্য আর ঐক্যের এক চোখ ধাঁধানো উদযাপনে উত্তর প্রদেশ সরকারের দীপাবলি উৎসব (Deepotsav 2025) অযোধ্যাকে পৌঁছে দিল বিশ্ব মঞ্চে। দুটি ক্ষেত্রে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ে এই উৎসব আবারও প্রমাণ করল তার আধ্যাত্মিক মহিমা। একযোগে সবচেয়ে বেশি প্রদীপ জ্বালানো এবং সবচেয়ে বড় সমবেত আরতির জন্য এই জোড়া বিশ্বরেকর্ড হয়েছে।

প্রদীপের আলোয় নতুন রেকর্ড: গিনেস বুকে নাম
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) জানিয়েছে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তা নিশাল বারোট এই কৃতিত্বের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “এটি এক বিশাল দীপাবলি উৎসব ছিল, যা বছরের পর বছর মনে থাকবে। এখানে ২৬,১৭,২১৫টি প্রদীপ জ্বালানো হয়েছে। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যা, যা আমরা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতি দিয়েছি। এই সাফল্য দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”

রেকর্ড নিরীক্ষক রিচার্ড স্টেনিংও এই দৃশ্যে মুগ্ধ। তিনি জানান, “আমরা এক আশ্চর্যজনক প্রদর্শনের সাক্ষী হলাম। ২৬ লক্ষ ১৭ হাজার ২১৫টি প্রদীপ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। প্রতি বছর এর সংখ্যা আরও বাড়ছে। এখানে আসতে পারা সম্মানের… এটি সত্যিই এক অসাধারণ ব্যাপার।”

সরযূ আরতিতেও নতুন ইতিহাস: ভক্তিতে টইটম্বুর অযোধ্যা
সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) অনুসারে, দ্বিতীয় রেকর্ডটি তৈরি হয় যখন ২,১২৮ জন ভক্ত একসঙ্গে সরযূ আরতি (Saryu Aarti) করেন। এটি একযোগে করা সবচেয়ে বড় সমবেত আরতি হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। উত্তর প্রদেশ পর্যটন দপ্তর, অযোধ্যা জেলা প্রশাসন এবং সরযূ আরতি সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। পবিত্র সরযূ নদীর তীর মুহূর্তের মধ্যে এক ঝলমলে ভক্তির সাগরে পরিণত হয়।

গত বছর এই একই আরতিতে ১,১৫১ জন অংশ নিয়েছিল, যা অযোধ্যাকে এই বিভাগে প্রথম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এনে দিয়েছিল। এই বছর সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা শহরের ক্রমবর্ধমান আধ্যাত্মিক মহিমা এবং গণ-অংশগ্রহণকেই তুলে ধরছে।

ঐক্যের বার্তা: নারী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের অংশগ্রহণ
ভগবান শ্রী রামের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত অযোধ্যা শহরটি লাখ লাখ প্রদীপের আলোয় ঝলমল করছে। সরযূ নদীর পবিত্র তীরে অনুষ্ঠিত এই সমবেত আরতি কেবল আধ্যাত্মিক উদ্দীপনাই নয়, ঐক্যের বার্তাও বহন করেছে। এতে নারী, সংস্কৃত ছাত্র এবং সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের সদস্যসহ ২,০০০-এরও বেশি মানুষ অংশ নেয়।

রবিবার (১৯ অক্টোবর), উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও সরযূ নদীর তীরে আরতিতে অংশ নেন।

নিশ্ছিদ্র আয়োজন: ১১টি জোনে ২,১০০ ভক্ত
জানা গেছে, রবিবার বিকেল ৫টায় এই বিশাল আরতি অনুষ্ঠিত হয়। ভিড় সুসংগঠিত রাখতে নদীর তীরকে ১১টি জোনে ভাগ করা হয়েছিল, যেখানে প্রতিটি জোনে প্রায় ২০০ জন করে অংশগ্রহণকারীর ব্যবস্থা ছিল। এই এলাকাটি ছিল নয়াঘাট থেকে লক্ষ্মণ ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত।

সংবাদ সংস্থা আইএএনএস (IANS)-এর মতে, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশনায় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করেছে, যাতে ভক্তি, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক নিশ্ছিদ্র সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়।

অযোধ্যার মেয়র মহন্ত গিরিশপতি ত্রিপাঠী বলেন, পবিত্র শহরের ঐতিহ্য বজায় রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। মূল অনুষ্ঠানের আগে আরতির মহড়া, বৈদিক মন্ত্রপাঠ এবং প্রদীপ জ্বালানোর মহড়া দেওয়া হয়, যাতে সব অংশগ্রহণকারীর মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় থাকে। যখন প্রদীপগুলি জ্বালানো হয়, তখন পবিত্র সরযূ ২,১০০টিরও বেশি প্রদীপের দীপ্তিতে ঝলমল করে ওঠে—যা আধ্যাত্মিকতা, ঐক্য এবং ঐশ্বরিক শক্তির এক অবিশ্বাস্য প্রতীকী দৃশ্য তৈরি করে।