‘এটা অগ্রহণযোগ্য!’ ইজরায়েলি বিমান হামলায় ১৩ জনের মৃত্যুর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কি ভেঙেই গেল?

মাত্র নয় দিন আগে শুরু হওয়া ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যেকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি (Fragile Ceasefire) চুক্তি রবিবার আবারও চরম সংকটের মুখে পড়ল। গাজার দক্ষিণে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে, ইজরায়েল গাজায় মানবিক সাহায্য (Humanitarian Aid) পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।

রাফাহ অঞ্চলে নতুন করে হামলা
ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তাদের সৈন্যরা হামলার শিকার হওয়ার পরই রাফাহ অঞ্চলে বিমান ও আর্টিলারি হামলা চালানো হয়েছে।

ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আজ দিনের শুরুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায়, আইডিএফ দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় হামাসের সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা শুরু করেছে।”

অন্যদিকে, হামাস কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা অভিযোগ করেছে, এই সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বেসামরিক হতাহতের এই খবর যাচাই করছে বলে জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার কারণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের রাশ টেনেছিল। চুক্তিতে জিম্মিদের মুক্তি, মৃতদেহ হস্তান্তর এবং গাজার কিছু অংশ থেকে ইজরায়েলি বাহিনীর সীমিত প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে, রাফাহকে ঘিরে উত্তেজনা সবসময়ই বেশি ছিল। স্থানীয় একজন বাসিন্দা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, সেখানে প্রথমে হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে স্থানীয় একটি গ্যাংয়ের সংঘর্ষ শুরু হয়, এর পরপরই ইজরায়েলি ট্যাঙ্ক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং বিমান বাহিনী দু’টি বিমান হামলা চালায়।

পাল্টাপাল্টি দোষারোপ ও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরাসরি হামাসকে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং কঠোর সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর কার্যালয় থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, “সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে কঠিন আঘাত হানা হবে।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ আরও যোগ করেছেন যে, প্রতিটি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য হামাসকে “ভারী মূল্য দিতে হবে”।

জবাবে, হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজ্জাত আল-রিশক পুনরায় চুক্তির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে ইজরায়েলকে অভিযুক্ত করেছেন। তাঁর দাবি, ইজরায়েলই বারবার চুক্তি ভঙ্গ করছে এবং “তাদের অপরাধের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য দুর্বল অজুহাত তৈরি করছে”। হামাসের সশস্ত্র শাখা দাবি করেছে, তারা অস্ত্রবিরতি মেনে চলছে এবং রাফাহতে কোনো সংঘর্ষের বিষয়ে তাদের “কোনো ধারণা নেই”।

বন্ধ রফা ক্রসিং, থমকে সাহায্য
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায় হামাসের ওপর চাপিয়ে একটি নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, মানবিক সাহায্যের জন্য গাজায় প্রবেশপথগুলি বন্ধ করে দিয়েছে ইজরায়েল। ঐ কর্মকর্তা বলেন, “হামাসের চরম লঙ্ঘনের পরে গাজা উপত্যকায় মানবিক সাহায্য সরবরাহ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।”

চুক্তি অনুযায়ী, হামাস এখন পর্যন্ত ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে এবং কয়েকজনের দেহাবশেষ হস্তান্তর করেছে। তবে আরও মৃতদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার আলোচনা ধীরগতিতে চলছে। অন্যদিকে, মিশরের সাথে রাফাহ ক্রসিং বন্ধ থাকার কারণে মানবিক সাহায্য আটকে আছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, হামাস যদি পূর্ণাঙ্গভাবে যুদ্ধবিরতি মেনে চলে এবং জিম্মিদের মুক্তি সম্পন্ন করে, তবেই এই ক্রসিং পুনরায় খোলা হবে।

শনিবার হামাস সতর্ক করেছিল যে, রফা ক্রসিং বন্ধ থাকলে মৃতদেহ সংগ্রহ ও হস্তান্তরে “উল্লেখযোগ্য বিলম্ব” হবে। এর ফলে মানবিক সংকটে থাকা গাজার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।