যে ভুলে নীরবে ভেঙে যায় দেহের কাঠামো! অস্টিওপরোসিস দিবস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমাদের শরীরের মূল কাঠামো হলো অস্থি বা হাড়। অথচ অনেক সময় অসচেতনতার কারণে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির যত্ন নিতে ভুলে যাই। এই অবহেলারই এক চরম ফল হলো অস্টিওপরোসিস—এমন একটি রোগ, যা নীরবে হাড়কে ভঙ্গুর করে তোলে, ফলে সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বিশ্বজুড়ে এই ‘নীরব ঘাতক’ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ২০ অক্টোবর পালিত হয় ওয়ার্ল্ড অস্টিওপরোসিস ডে (World Osteoporosis Day)। ইন্টারন্যাশনাল অস্টিওপরোসিস ফাউন্ডেশন (IOF)-এর নেতৃত্বে এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো হাড়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা, রোগ প্রতিরোধে উৎসাহিত করা এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা।
কেন এই রোগ অবহেলিত? ২০২৫ সালের থিম কী?
অস্টিওপরোসিস বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করলেও, এটি এখনও মারাত্মকভাবে কম নির্ণয় (underdiagnosed) এবং কম চিকিৎসাপ্রাপ্ত (undertreated) রোগগুলির মধ্যে অন্যতম। অনেক ক্ষেত্রে একবার হাড় ভাঙার পরও রোগীরা সঠিক ফলো-আপ বা চিকিৎসা পান না।
২০২৫ সালের বিশ্ব অস্টিওপরোসিস দিবসের থিম বা মূল বার্তা হলো: “It’s Unacceptable!” (এটা অগ্রহণযোগ্য!)। এই থিমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে, অস্টিওপরোসিসের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এই দীর্ঘদিনের অবহেলা আর মেনে নেওয়া যায় না। কার্যকর রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি এবং চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও যে বিশাল সংখ্যক রোগী সঠিক যত্ন পাচ্ছেন না, তা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে এই বছরের প্রচারণায়।
হাড়ের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব ও এই দিবসের তাৎপর্য
নীরবতার আড়াল: অস্টিওপরোসিসের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ থাকে না। হাড় মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে গেলে তবেই তা ধরা পড়ে, সাধারণত কোনো ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙার মাধ্যমে। এই নীরব প্রকৃতিই রোগটিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে? সাধারণত ৫০ বছর পেরোনো নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই এই রোগের ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে মেনোপজের (Menopause) পর মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব দ্রুত কমতে থাকে। এছাড়াও অপর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং শরীরচর্চার অভাব এই ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্বজুড়ে, প্রতি ৩ জন মহিলার মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৫ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন ৫০ বছর বয়সের পরে অস্টিওপরোসিস-সম্পর্কিত ফ্র্যাকচারে ভোগেন।
প্রতিরোধই মূল চাবিকাঠি: হাড়ের যত্নের এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যৌবনকাল থেকেই হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা জরুরি। ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার, পর্যাপ্ত শরীরচর্চা (যেমন: হাঁটা, দৌড়ানো, হালকা যোগব্যায়াম) এবং সঠিক জীবনধারা অনুসরণ করে এই রোগের ঝুঁকি বহুলাংশে কমানো সম্ভব।
ওয়ার্ল্ড অস্টিওপরোসিস ডে বিশ্ববাসীকে এই বার্তা দেয় যে, হাড়ের স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করা মানে দেহের কাঠামোকেই অবহেলা করা। তাই আজই হাড়ের যত্নে সচেতন হোন এবং রোগমুক্ত, সক্রিয় জীবনযাপন নিশ্চিত করুন।